বিনা নোটিশে এবং আইন বহির্ভূতভাবে গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় পিছু হটল নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। দীর্ঘ বিরোধের পর জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে গ্রাহকের সঙ্গে আপস করল সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে এক শুনানিতে এই আইনি নিষ্পত্তি হয়।
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ জামান অভিযোগ করেন, বৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই কোনো নোটিশ ছাড়াই তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। নেসকো অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে সহযোগিতার বদলে অসদাচরণ করা হয় এবং মামলার হুমকি দেওয়া হয়। উপায়হীন হয়ে তিনি জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ মজনু মিয়ার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে নেসকো কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা গ্রাহকের অধিকার পরিপন্থী। শুনানিতে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিনিধি হিসেবে উচ্চমান সহকারী মনাইউন ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি আপসনামা স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে নেসকো অঙ্গীকার করে যে—ভবিষ্যতে অভিযোগকারী গ্রাহককে কোনো হয়রানি করা হবে না এবং নোটিশ ছাড়া তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না।
চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মজনু মিয়া বলেন, “লিগ্যাল এইডের উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও বিনা খরচে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়া। এই মামলাটি প্রমাণ করে, আইনের আশ্রয় নিলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সাধারণ মানুষ তার অধিকার আদায় করতে পারে।”
ভুক্তভোগী ফিরোজ জামান এই স্থায়ী সমাধানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, গণমাধ্যম এবং লিগ্যাল এইডের সহযোগিতার কারণেই তিনি তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেয়েছেন। উল্লেখ্য, অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পর নেসকো কর্তৃপক্ষ দ্রুত ওই গ্রাহকের সংযোগটি পুনঃস্থাপন করেছে।