আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুর-৩ আসনে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। এই আসনে অন্যতম আলোচিত মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন মুহাম্মদ এহসানুল হক। জোটের রাজনীতির সমীকরণে তিনি ‘১১ দলীয় ঐক্য’ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।গতকাল রাতে ১১ দলীয় জোটের ডাকা সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষনা দেয়া হয়৷
মুহাম্মদ এহসানুল হক বাংলাদেশের এক সুপরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান।তাঁর শৈশব-কৈশর কেটেছে কিংবদন্তি শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ.-এর স্নেহ ও ছায়ায়। তাঁর পিতা প্রফেসর নুরুল হক মিয়া ঢাকা কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির রসায়ন বইযের খ্যাতিমান রচয়িতা। পারিবারিক এই দ্বীনি-শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তাঁকে জ্ঞানের অন্বেষা ও সমাজসেবায় অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বর্তমান সময়ের আলোচিত ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হকের ভাগ্নে।
মুহাম্মদ এহসানুল হক অল্প বয়সেই কুরআনুল কারিম হিফজ সম্পন্ন করেন আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ রাহমানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসায়। পরবর্তীতে দেশের খ্যাতনামা দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ায় দাওরায়ে হাদীস ও ইফতা সম্পন্ন করেন। উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি তিনি আধুনিক শিক্ষাতেও সমান তৎপর ছিলেন। ঢাকা আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই মাওলানা এহসানুল হক রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শাইখুল হাদীস রহ.-এর নেতৃত্বে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সিনিয়র সহসভাপতি,হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য,শাইখুল হাদীস পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তরুণ আলেম প্রজন্মের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন৷
তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ায় শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি তিনি একজন প্রথিতযশা লেখক ও গবেষক। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৬টি এবং সম্পাদিত গ্রন্থ ৪টি। মাসিক রাহমানি পয়গাম সাময়িকীর সম্পাদক হিসেবে দ্বীন, সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
মুহাম্মদ এহসানুল হক নির্বাচনে জয়ী হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং এলাকার কৃষি-শিল্পের সমন্বিত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন।
গাজীপুর-৩ আসনের শ্রীপুর ও সদর আংশিক এলাকার ভোটারদের মধ্যে এহসানুল হককে নিয়ে মিশ্র কিন্তু কৌতূহলী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তরুণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, বড় দুটি দলের বাইরে ১১ দলীয় ঐক্যের এই প্রার্থী নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে পারেন। স্থানীয়দের মতে, এহসানুল হকের ক্লিন ইমেজ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি তার শ্রদ্ধাশীল আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে তাকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
তবে সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ মনে করছেন, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তির বিপরীতে জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করা তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হবে।
গাজীপুর-৩ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের হয়ে মুহাম্মদ এহসানুল হকের উপস্থিতি নির্বাচনের লড়াইকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে। হলফনামা অনুযায়ী মুহাম্মদ এহসানুল হকের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা শেখ সাহেব বাজার রোড, থানা নিউমার্কেট, ঢাকা। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী যদিও তিনি শিক্ষকতার সাথেও জড়িত । পৈত্রিক ঠিকানায় এসে নির্বাচন করলেও দীর্ঘসময় এ এলাকার বাহিরে থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন৷ তবে তার হলফনামায় স্বচ্ছতা এবং স্থানীয়দের ইতিবাচক সমর্থন তাকে ভোটের লড়াইয়ে কতটা এগিয়ে নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন এলাকাবাসী।
–মাহমুদুল হাসান, শ্রীপুর (গাজীপুর)










