দক্ষিণ কোরিয়ার বিচার বিভাগীয় ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ও নাটকীয় অধ্যায়ের সূচনা হলো। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ ও বিতর্কিত সামরিক আইন জারির অভিযোগে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সিউলের একটি আদালত। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সরাসরি সম্প্রচারিত এক জনাকীর্ণ আদালত কক্ষে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন কেবল একটি অগণতান্ত্রিক সামরিক আইন জারিই করেননি, বরং সেই আইনকে বৈধতা দিতে গিয়ে বিচারিক কাজে নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং সরকারি নথিপত্র জালিয়াতি করেছেন। বিশেষ করে, সামরিক আইন চলাকালীন তার জারি করা বিতর্কিত গ্রেফতারি পরোয়ানাগুলো কার্যকর করতে গিয়ে তিনি প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন—যা আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
বিচারক বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ পদে থেকে বিচারিক স্বাধীনতায় বাধা প্রদান এবং রাষ্ট্রীয় নথিপত্র জাল করা গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়ার শামিল।”
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হঠাৎ করে সামরিক আইন জারি করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিলেন ইউন সুক ইওল। তবে পার্লামেন্টের তীব্র বিরোধিতা এবং জনবিক্ষোভের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সামরিক আইন প্রত্যাহারের পরপরই তার বিরুদ্ধে অভিশংসন ও ফৌজদারি মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আজকের এই রায়টি তার বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা একাধিক মামলার মধ্যে প্রথম কোনো বড় এবং দণ্ডমূলক রায়।
২০১৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হাইয়ের পর এটিই কোনো প্রেসিডেন্টের মামলার রায় যা সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হলো। রায় ঘোষণার সময় আদালতের বাইরে জড়ো হওয়া হাজার হাজার মানুষ উল্লাস প্রকাশ করে। তাদের মতে, এই রায় প্রমাণ করে যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এমনকি দেশের প্রেসিডেন্টও নন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউনের এই সাজা দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণশীল রাজনৈতিক শিবিরের জন্য এক বড় ধাক্কা। এই রায় কেবল ইউনকে কারারুদ্ধ করেনি, বরং দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে একটি কঠোর বার্তা দিল। ৫ বছরের এই কারাদণ্ড কার্যকর হলে ইউনকে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক দৃশ্যপটের বাইরে থাকতে হবে।
-এম. এইচ. মামুন










