শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৫২টি কোম্পানি এবং ১৭টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড নির্ধারিত সময়ের পরও বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করেনি কিংবা আর্থিক প্রতিবেদনসহ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও দাখিল করেনি। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড টানা দুই থেকে ছয় বছর ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থ হচ্ছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান আবার নিয়মিত ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করছে না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, বিডি ওয়েল্ডিং, ডেল্টা স্পিনার্স ও সুহৃদ টানা ছয় বছর ধরে কোনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ফ্যামিলিটেক্স, কেয়া কসমেটিক্স, নর্দান জুট ও নূরানী ডাইং পাঁচ বছর ধরে প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থ। এছাড়া ফারইস্ট লাইফ, উত্তরা ফাইন্যান্স, লিবরা ইনফিউশন, নিউ লাইন, আরএসআরএম স্টিল ও রিজেন্ট টেক্স চার বছর ধরে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানি—বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও শাইনপুকুর সিরামিক্সকে পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১২ কর্মদিবসের মধ্যে সকল পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও কোম্পানি সচিবকে নিয়ে পর্ষদ সভা আয়োজন করতে হবে।
কমিশনের আদেশে বলা হয়, এসব কোম্পানির ক্ষেত্রে ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক নিরীক্ষিত হিসাব অনুমোদন, লভ্যাংশ ঘোষণা, এজিএম আয়োজন, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা পালনের জন্য নিয়মিত পর্ষদ সভা অপরিহার্য হলেও সংশ্লিষ্ট তিনটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কমিশন এই নির্দেশনা দিয়েছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বেক্সিমকো লিমিটেড ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করার পাশাপাশি চলতি হিসাব বছরেও এখন পর্যন্ত কোনো ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন দাখিল করেনি। একই অবস্থা বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও শাইনপুকুর সিরামিক্সের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে।
যদিও বেক্সিমকো গ্রুপভুক্ত এই তিন কোম্পানির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্য অনিয়মকারী কোম্পানির ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, এসব কোম্পানিতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছিল। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে পর্ষদ সভা আহ্বানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সম্প্রতি আপিল বিভাগ সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় কমিশনের আদেশ কার্যকর হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ইতোমধ্যে তিন কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। একই ধরনের ব্যবস্থা অন্য কোম্পানির ক্ষেত্রে কেন নেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসইসির মুখপাত্র বলেন, কমিশন আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
কমিশনের শাস্তিমূলক কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করার দায়ে সাধারণত পর্ষদ সদস্যদের এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। তবে এসব জরিমানা অনেক ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ বছর পর আরোপ করা হয় এবং এর বড় অংশ আদায় করতেও ব্যর্থ হয়েছে কমিশন। অনাদায়ী জরিমানা আদায়ে সার্টিফিকেট মামলা করতে হচ্ছে, যার পেছনে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
-আফরিনা সুলতানা/










