ভোটের মাঠে সমতা রক্ষা হচ্ছে না, ইসির সঙ্গে জাময়াতের বৈঠক

প্রচারণা শুরুর আগেই ভোটে মাঠে সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে দলটির অভিযোগ, একদিকে যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আর যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন না, তাদের হয়রানির জন্য জরিমানার নোটিশ দেওয়াসহ নানা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া দলীয় প্রধানদের প্রটোকল, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না বলেও ইসির কাছে অভিযোগ করে দলটি।
গতকাল সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে এ অভিযোগ জানায়। পরে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। প্রবাসীদের পোস্টাল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অভিযোগের মধ্যে এ বৈঠক হয়।
জামায়াত প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জসিম উদ্দিন সরকার। ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।
তিনি জানান, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তাদের অভিযোগের কাগজের স্তুপ পড়ে আছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দলীয় প্রধানদের প্রটোকল, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না। সেক্রেটারী জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সুষ্ঠ নির্বাচনের মৌলিক কতগুলো দাবি ছিল। তার একটি হচ্ছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা যদি নিশ্চিত করা না যায় তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। …২২ জানুয়ারির আগে এখন প্রচার প্রচারণা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বেশ কিছু এলাকায় প্রার্থীরা বিশেষ কিছু দলের প্রার্থী অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। জামায়াতের প্রার্থীরা এখন নির্বাচনী প্রচারণা করছেন না, দলীয় সভা সমাবেশ করছেন এটা নির্বাচনে বাধা নয় দাবি করেন তিনি।
এ জামায়াত নেতা বলেন, সেই জায়গায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। স্বেপ্রণোদিত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী কর্মকর্তারা হয়রানি করছেন-এই অভিযোগটা আছে। আর আমরা অভিযোগ দায়ের করেছি, কাগজের স্তুপ পড়ে আছে; কোনো অ্যাকশন নাই। তাহলে এখানে নির্বাচনী সমতা রক্ষা করা হচ্ছে না।
কোনো দলের নামোল্লেখ না করে জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদের অভিযোগ, একদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে, তাদের কোন একশন নাই। আর যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন না, হয়রানি করার জন্য আবার তাদেরকে জরিমানা নোটিস নানা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। কমিশনকে আমরা এটা বলেছি এটা বন্ধ করতে হবে। সমতার জায়গায় দলীয় প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের যে দুটি বড় দল প্রতিদ্বন্দিতায় জোট গঠন করেছে বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে সে জায়গায় সমতা নিশ্চিত হওয়া উচিত ছিল, রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল নিরাপত্তাজনিত বিষয় যদি থাকে তাহলে এখানে ইকুইটি আসতে হবে। এর আগেও এ বিষয়ে ইসির নজরে আনা হলে তা কাযকরে উদ্যোগ নেই বলে জানান তিনি।
সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ইকুয়ালিটি মেনটেন করতে হবে এটা আমরা বলেছি। কমিশন আশ্বস্ত করেছেন। গতবারও আমরা একই কথা বলেছি। আশ্বস্ত করেছেন কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেন নি।
এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রবাসে পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাহরাইনে বা বিদেশে জামায়াতে ইসলামীর কোনো শাখা নেই। যেখানে দলের কমিটি নেই, সেখানে রাজনৈতিক নেতা হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাই উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর কোনো সুযোগ নেই।
এক সপ্তাহ আগে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের নেৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসির সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় নির্বাচন সামনে রেখে যাদের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার, তাদের অনেকেই ‘দলীয় পরিচয়ে’ পদায়ন পাওয়ায় প্রার্থিতা বাছাইয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ‘বৈষম্যের’ শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি ও পক্ষপাতদুষ্ট ডিসি বা এসপি যারা আছেন তাদের অপসারণের দাবি জানায় দলটি।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে। পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটদানের ‘এক্সারসাইজ’ হওয়ায় এখানে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। তবে যে ভুলভ্রান্তিটা হচ্ছে এখানে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে হয়ে কিছু কিছু কাজ এখানে হয়েছে এবং সেটা প্রকাশিত হয়েছে, সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। এখন আমরা বলেছি, এ বিষয়ে আপনাদেরকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে।” ইতোমধ্যে বাহরাইনে ১৬০টি ব্যালট পেপারের খাম এবং কাতারে একজনের বাসায় বেশ কিছু ব্যালটের খাম বিতরণের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় এসেছে।
এরপরই বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি বিলি না করা ১২৯টি খামসহ দূতাবাসে হাজির হয়ে বিতরণের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী খামসমূহ বাহরাইন পোস্ট ফেরত নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নিকট আলাদাভাবে বিতরণের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশির মাধ্যমে কোনো খামই খোলা হয়নি এবং তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন হয়নি।”

_এজাজ আহম্মেদ/মামুন