সেমিফাইনালে মিশরের বিদায়, ফাইনালে সেনেগাল

আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে (আফকন) এখন পর্যন্ত একবার শিরোপা জিতেছে সেনেগাল। ২০২১ আসরের ফাইনালে টাইব্রেকারে মিশরকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। এবারও সেই মিশরকেই একপেশে দাপটে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় করে দিল সেনেগাল।

গতকাল বুধবার মরক্কোর টাঙিয়ের গ্র্যান্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে মিশরকে ১–০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে সেনেগাল। লিভারপুলের সাবেক সতীর্থ মোহামেদ সালাহকে হতাশ করে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন সাদিও মানে। এই জয়ে আফকনের সর্বশেষ চার আসরের মধ্যে তৃতীয়বার ফাইনালের টিকিট পেল সেনেগাল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় সাদিও মানের দল। ফলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মিশর কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। সালাহ ও ওমর মার্মাউশদের অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সে আফকনের সর্বোচ্চ সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা বিদায় নেয় টুর্নামেন্ট থেকে।

প্রথমার্ধে গোলশূন্য সমতা থাকলেও ৭৮তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় সেনেগাল। লামিনে কামারার শট বক্সের বাইরে মিশরের এক ডিফেন্ডার আটকে দিলেও বল পেয়ে যান সাদিও মানে। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী নিচু শট জালে জড়িয়ে যায়। এটি ছিল সেনেগালের হয়ে মানের ১২৫তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৫৩তম গোল, আর চলতি আসরে তার দ্বিতীয় গোল।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার শেষ চেষ্টা চালায় মিশর। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মার্মাউশ বক্সের বাইরে থেকে শট নিলেও সেনেগালিজ গোলরক্ষক দারুণ সেভে দলকে জয়ের আনন্দে ভাসান। পুরো ম্যাচে সালাহ চার গোল করলেও এই ম্যাচে ছিলেন নিষ্প্রভ, ফলে জাতীয় দলের জার্সিতে তার প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আবারও অধরাই থেকে গেল।

পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট ছিল সেনেগালের আধিপত্য। ম্যাচে তারা ৬৪ শতাংশ বল দখলে রেখে ১২টি শট নেয়, যার চারটি লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে মিশরের তিনটি শটের মাত্র একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে।

প্রথম সেমিফাইনাল থেকে সেনেগাল ফাইনালে ওঠার পর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নাইজেরিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে উঠে এসেছে মরক্কো। আগামী রোববার রাত ১টায় ফাইনালে মুখোমুখি হবে সেনেগাল ও মরক্কো।

-এমইউএম