ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার স্থায়ী অবসান এবং সাম্য ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আসন্ন গণভোটকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ। তিনি বলেছেন, “আগামী ৫, ১০ বা ২০ বছর দেশটা কীভাবে চলবে, তা এই গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচার আর কখনও ফিরে আসতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই আয়োজন।”
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত রংপুর বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মূলত আসন্ন গণভোটের প্রচার এবং ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে আলী রিয়াজ বলেন, “জাতীয় সনদ হয়তো কালো কালিতে ছাপা হয়েছে, কিন্তু এর প্রতিটি অক্ষর লেখা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ শহীদের রক্ত দিয়ে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সনদ অর্জিত হয়েছে চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে। শহীদদের রক্ত এবং যে মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, তাদের দেওয়া পবিত্র দায়িত্ব পালনের জন্যই আমরা কাজ করছি।”
রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক ইমামের উদ্দেশে তিনি বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে ইমামরাও রয়েছেন। আপনারা সমাজের পথপ্রদর্শক। জুলাই সনদে বর্ণিত ইনসাফভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে আপনাদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।”
অধ্যাপক আলী রিয়াজ আরও উল্লেখ করেন যে, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে রাষ্ট্র সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “আমরা যেন একটি ইনসাফভিত্তিক ব্যবস্থা পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে পারি, সেই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো. আমিনুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সম্মেলনে উপস্থিত ইমামগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের এই প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।