পারিশ্রমিক ও কাজের মান নিয়ে আপস করি না: মিমি

কলকাতার অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, পারিশ্রমিক এবং ইন্ডাস্ট্রির নানা বাস্তবতা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেছেন। মিমি বলেছেন, তিনি কখনো কাজের মানের সঙ্গে আপস করতে রাজি নই, ঠিক তেমনি কম পারিশ্রমিকে অভিনয় করতে চান না। “আমি আগের তুলনায় অনেক বেশি ডিপ্লোম্যাটিক হয়েছি, কিন্তু সত্য কথা বলা এখনো আমার অভ্যাস। তাই কাজের মান ও পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে আপস করা আমার জন্য সম্ভব নয়।”

ক্যারিয়ারের শুরুতে ঋতুপর্ণ ঘোষের ধারাবাহিক ‘গানের ওপারে’-এ ‘পুপে’ চরিত্রে অভিনয় করে মিমি দর্শকদের মধ্যে তুমুল প্রশংসা পেয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারে মিমি বলেন, “পুপে চরিত্রটি ঋতু দার সৃষ্টিশীল মননের ফল। সেটি অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তবে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি যে ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন একটি আইকনিক চরিত্রে অভিনয় করতে পেরেছি।” মিমির মতে, সেই চরিত্র তাকে অভিনয় জগতে শক্ত অবস্থান দিয়েছে, যা তার পরবর্তী ক্যারিয়ারেও প্রভাব ফেলেছে।

মিমি আরও জানিয়েছেন, অনেকেই তাকে কাজে ডাকেন না কারণ তিনি পারিশ্রমিক নিয়ে কখনো দরদাম করেন না। “আমি আমার কাজে শতভাগ নিবেদন দিই। পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে কেন আপস করব? যারা আমার মান বোঝে, তারা জানে, আমি কোনো কাজ কম করে করি না।” তার এই দৃঢ় মনোভাবই তাকে ইন্ডাস্ট্রিতে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে।

অভিনয়ের মান, পারিশ্রমিকের নীতি এবং পেশাগত সততা— এই তিনটি দিক মিমির ক্যারিয়ারকে স্বতন্ত্র করেছে। তিনি চান, তার কাজ এবং দক্ষতাকে সর্বাধিক মূল্য দেওয়া হোক, এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজের সঙ্গেই খাপ খাইয়ে চলতে পারুক। সাক্ষাৎকার থেকে বোঝা যায়, মিমি চক্রবর্তী শুধু জনপ্রিয় নয়, বরং পেশাগতভাবে আত্মনির্ভরশীল, সচেতন এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ একজন শিল্পী।

মিমি স্বীকার করেন, ইন্ডাস্ট্রিতে তার কোনো প্রযোজক পরিবার নেই, কোনো প্রেমিক বা বড় ভাই নেই, যাদের প্রযোজনা সংস্থা থাকত। “সুতরাং আমার জন্য আলাদা করে কেউ গল্প লিখবে না। আমাকে যে অফারগুলো দেওয়া হয়, সেখান থেকেই আমি বেছে কাজ করি,” তিনি জানান। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্পূর্ণভাবে নিজের পরিশ্রম ও যোগ্যতার উপর নির্ভর করছে।

মিমির এই মনোভাব নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের জন্যও উদাহরণস্বরূপ। নিজের মান ও মর্যাদা বজায় রেখে কাজ করা, পারিশ্রমিকের বিষয়ে সৎ থাকা এবং ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা স্বীকার করা— এ তিনটি বিষয়ই মিমিকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। অভিনেত্রী হিসেবে তার যাত্রা প্রমাণ করে যে, দক্ষতা, আত্মসম্মান এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করলে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সাফল্য অর্জন সম্ভব।

-বিথী রানী মণ্ডল