জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দেননি বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী। বরং পলক আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি যথেষ্ট সংবেদনশীল ছিলেন এবং পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শুনানি শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন পলকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ।
শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি (ডিসচার্জ) দেওয়ার জন্য আজ আদালতে একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টের সময় ইন্টারনেট সংক্রান্ত যে অভিযোগ পলকের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি কখনোই ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনা দেননি এবং ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধও ছিল না। শুধুমাত্র গুজব প্রতিরোধে কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারনেট গতি সীমিত করা হয়েছিল।”
আইনজীবী লিটন আরও উল্লেখ করেন যে, এটি একটি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত (টেকনিক্যাল) মামলা। এ ধরনের মামলায় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় তারা পাননি। তিনি বলেন, “পলকের বিরুদ্ধে ৯৭টি মামলা রয়েছে এবং তিনি প্রায় ৮৯ দিন রিমান্ডে ছিলেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা যতটুকু পেরেছি যুক্তি উপস্থাপন করেছি। প্রসিকিউশন যেসব তথ্য দাখিল করেছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এখানে অভিযোগ গঠন করার মতো কোনো উপাদান নেই।”
এক প্রশ্নের জবাবে লিটন আহমেদ বলেন, ইন্টারনেট বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আইনি বা প্রশাসনিক ক্ষমতা জুনাইদ আহমেদ পলকের হাতে ছিল না। ফলে তিনি এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার অবস্থানেও ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ইন্টারনেট সংক্রান্ত প্রতিটি ইস্যুতে পলকের যৌক্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে। তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি বিরূপ ছিলেন না, বরং সংবেদনশীল থেকে সংকট সমাধানের চেষ্টা করেছেন।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে তথ্য আড়ালের অভিযোগে পলকের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। আজ শুনানিতে তার আইনজীবী সব অভিযোগ অস্বীকার করে তার মক্কেলের মুক্তি ও মামলা থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করেন।