জমে উঠেছে ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসব

গত শনিবার ১০ জানুয়ারি রাজধানীতে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা ওঠার পর থেকেই দর্শকের ভিড় আর উচ্ছ্বাসে যেন প্রাণ পেয়েছে আয়োজনটি। সকাল থেকে রাত–বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তন, কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমি, অলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকা কিংবা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মিলনায়তনে ঢুঁ মারলেই বোঝা যায় এই উৎসবকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ কতটা তীব্র।

উৎসবের উদ্বোধনী দিনে চীনা পরিচালক চেন শিয়াং-এর ‘উ জিন ঝি লু’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। প্রথম দিন থেকেই মিলনায়তনের আসন পূর্ণ থাকছে, অনেককে দাঁড়িয়ে সিনেমা দেখতে দেখা গেছে।
এবারের উৎসবের স্লোগান ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’। উৎসবে সিনেমা দেখতে আসা দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র দেখার সুযোগই তাদের টেনে এনেছে।

ধানমন্ডিতে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে সিনেমা দেখতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সায়েম রহমান বলেন, ‘ক্লাস শেষ করে সরাসরি এখানে চলে এসেছি। ইরান আর চীনের সিনেমাগুলো গল্প বলার দিক থেকে খুবই শক্তিশালী। বড়পর্দায় এমন ছবি ঢাকায় খুব কমই দেখা যায়।’
পরিবার নিয়ে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে গত বুধবার সন্ধ্যায় ‘পরিণাম’ সিনেমা দেখতে এসেছেন ব্যাংকার নাসরিন আক্তার। তার কথায়, ‘শুধু বিনোদন নয়, এসব সিনেমা ভাবতেও শেখায়। মেয়েকে নিয়ে এসেছি, উৎসবে আলাদা শিশুর সেশন থাকাটার বিষয়টি ভালো লেগেছে। সিনেমা দেখতে পেরে মেয়ে দারুণ খুশি হয়েছে।’

অন্যদিকে, তরুণ নির্মাতা আশিক মাহমুদ মনে করেন, এই উৎসব চলচ্চিত্র শিক্ষার বড় এক ক্ষেত্র। তিনি বলেন, ‘রেট্রোস্পেকটিভ আর ওয়াইড অ্যাঙ্গেল বিভাগে যেসব ছবি দেখানো হচ্ছে, সেগুলো থেকে আমরা নির্মাতারা অনেক কিছু শিখতে পারি।’

রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের উৎসবে ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, বাংলাদেশ প্যানোরামা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, উইমেন ফিল্মমেকার, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস–প্রতিটি বিভাগেই দর্শকদের আলাদা কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার শোগুলোতে টিকিটবিহীন এই প্রদর্শনীতে প্রবেশ করতে আগেভাগেই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। উৎসবের আরেকটি নতুন সংযোজন কক্সবাজারের লাবনী বিচ পয়েন্টে ওপেন এয়ার স্ক্রিনিং, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে।

পাশাপাশি মাস্টার ক্লাস ও আর্ট এক্সিবিশন মিলিয়ে উৎসবটি হয়ে উঠেছে কেবল চলচ্চিত্র প্রদর্শনী নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। ১৮ জানুয়ারি উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সমাপনী দিনে প্রদর্শিত হবে এবারের সেরা পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র।

উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন, ‘ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসব মানে চলচ্চিত্র দর্শকদের মিলনমেলা। এবার নানা শ্রেণিপেশার মানুষ এসেছেন সিনেমা দেখতে। ২৩তম চলচ্চিত্র উৎসবের মতো এবার চলচ্চিত্র উৎসবে ছবি দেখতে দর্শকের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। আশা করছি, দর্শকের এ স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি উৎসবের শেষ দিনে পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। উৎসব সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’

মাহমুদ সালেহীন খান