পিরিয়ড বা মাসিক একজন মেয়ের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। এই সময়ে জরায়ু থেকে রক্তক্ষরণ হয়, যা পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকরভাবে সামলানো খুবই জরুরি। ঠিক এই জায়গাতেই প্যাড ব্যবহারের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
পিরিয়ডের সময় প্যাড ব্যবহার করা একজন মেয়ের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত সরাসরি শরীরের বাইরে বের হয়, তাই যদি তা পরিষ্কারভাবে শোষণ না করা হয়, তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। ভালো মানের স্যানিটারি প্যাড রক্ত দ্রুত শোষণ করে নেয় এবং ত্বককে শুষ্ক রাখে। এতে চুলকানি, দুর্গন্ধ কিংবা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের আশঙ্কা কমে যায়।
প্যাড ব্যবহার মেয়েদের স্বাচ্ছন্দ্য ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। পিরিয়ডের সময় অনেক মেয়ে স্কুল, কলেজ বা অফিসে যেতে ভয় পায়, লিকেজের চিন্তায় অস্বস্তিতে থাকে। সঠিকভাবে প্যাড ব্যবহার করলে চলাফেরা, কাজকর্ম বা পড়াশোনা স্বাভাবিকভাবে করা সম্ভব হয়। মানসিক চাপও অনেকটাই কমে যায়।
প্যাড ব্যবহার না করে কাপড় বা অপরিষ্কার জিনিস ব্যবহার করলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া সহজেই জন্ম নেয়, যা থেকে তলপেটে ব্যথা, ত্বকের সমস্যা এমনকি জরায়ু সংক্রমণও হতে পারে। বিশেষ করে কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাই নিরাপদ পিরিয়ড ম্যানেজমেন্টের জন্য প্যাড ব্যবহার খুবই প্রয়োজন।
তবে শুধু প্যাড ব্যবহার করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। নির্দিষ্ট সময় পর পর প্যাড পরিবর্তন করা খুব জরুরি। সাধারণত ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর পর প্যাড বদলানো উচিত, রক্তপাত কম হলেও। একই প্যাড দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। ব্যবহৃত প্যাড ঠিকভাবে মোড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলতে হবে, খোলা জায়গায় ফেলা উচিত নয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পিরিয়ডের সময় প্যাড ব্যবহার একজন মেয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু পরিষ্কার থাকার বিষয় নয়, বরং সুস্থ থাকা, সংক্রমণ থেকে বাঁচা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই পিরিয়ডকে লজ্জার বিষয় না ভেবে, সচেতনভাবে প্যাড ব্যবহার করা এবং নিজের শরীরের যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
বিথী রানী মণ্ডল/










