
নাসা ঘোষণা দিয়েছে, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবার মানুষকে চাঁদের দিকে পাঠানোর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। মহাকাশ সংস্থাটি জানিয়েছে, আর্টেমিস–২ নামের ঐতিহাসিক মানববাহী মিশনের সম্ভাব্য উৎক্ষেপণ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি। এই মিশনের মাধ্যমে ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো মানুষ চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। তবে উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বা ‘লঞ্চ উইন্ডো’ খোলা থাকবে ৩১ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আবহাওয়া বা কারিগরি কোনো জটিলতা দেখা দিলে বিকল্প হিসেবে ফেব্রুয়ারির আরও কয়েকটি দিন, এমনকি মার্চ ও এপ্রিলের কিছু তারিখও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
আর্টেমিস–২ মিশনে অংশ নেবেন নাসার তিন মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কচ। তাদের সঙ্গে থাকবেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। চার মহাকাশচারীকে নিয়ে প্রায় ১০ দিনের এই যাত্রায় ওরিয়ন মহাকাশযান চাঁদের খুব কাছ দিয়ে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে। তবে এই মিশনে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করা হবে না।
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে নাসার শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হবে। উৎক্ষেপণের পর প্রথমে মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথে কয়েকবার প্রদক্ষিণ করবে, যাতে লাইফ সাপোর্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম পরীক্ষা করা যায়। এরপর সেটি চাঁদের দিকে যাত্রা করবে এবং চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ব্যবহার করে ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি’ পদ্ধতিতে পৃথিবীর পথে ফিরে আসবে। এই পদ্ধতির ফলে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত জ্বালানি ছাড়াই নিরাপদে পৃথিবীতে ফেরা সম্ভব হবে।
নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস–২ এর প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের উপস্থিতিতে রকেট, মহাকাশযান এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রযুক্তি নিখুঁতভাবে কাজ করছে কি না তা যাচাই করা। এই মিশনের সফলতা ভবিষ্যতের আরও বড় অভিযানের ভিত্তি তৈরি করবে। নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে আর্টেমিস–৩ মিশনের মাধ্যমে আবার মানুষ চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করবে, যা ভবিষ্যতে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি এবং একদিন মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পথ প্রশস্ত করবে।
সূত্র: ডেইলি মেইল









