ঢালিউড কুইন হিসেবে পরিচিত শামসুন্নাহার স্মৃতি, যিনি সবার কাছে পরীমণি নামেই সমধিক পরিচিত, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের একজন আলোচিত ও প্রভাবশালী অভিনেত্রী। ২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখার পর থেকেই তিনি তার সৌন্দর্য এবং অভিনয় শৈলী দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়েন। বিশেষ করে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমায় তার অভিনয় তাকে সমালোচকদের কাছে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায় এবং তিনি একজন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জাত চেনান।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী পরীমণি কেবল রুপালি পর্দার জন্যই পরিচিত নন, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তিনি ভক্তদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। অভিনয় দক্ষতা এবং সিনেমার ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে আত্মপ্রকাশের কারণে দর্শকরা তাকে খুব পছন্দ করেন। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব উপস্থিতি তাকে ভক্তদের কাছে আরও কাছে নিয়ে এসেছে। ব্যক্তিজীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে তিনি কখনো দ্বিধা করেন না, যা তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমানে পরীমণি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। সেখানে অবকাশযাপন করতে করতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিগুলোর ক্যাপশনে পরীমণি লিখেছেন, ‘শীত নাই,’ সঙ্গে একটি ভালোবাসার ইমোজি জুড়ে দিয়েছেন। ছবি প্রকাশ্যে আসার পর ভক্তরা তার ফুরফুরে মেজাজ, আভিজাত্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে প্রশংসার ঝড় তুলেছেন।
শেয়ার করা ছবিগুলিতে দেখা যায়, পরীমণি সমুদ্র তীরবর্তী হোটেলের ব্যালকনিতে আনন্দের ছন্দে রয়েছেন। পরী পোষাকে ছোট প্যান্ট এবং স্লিভলেস টপস পরেছেন, আর চোখে রোদ চশমা। তার এই লাইট ও ফ্রেশ লুকের সঙ্গে সমুদ্রের নীল জলরাশি যেন এক অপূর্ব সমন্বয় তৈরি করেছে। ভক্তরা ছবিতে তার হাসি, উজ্জ্বলতা এবং ফ্রেশ লুকের প্রশংসা করছেন। একজন অনুরাগী লিখেছেন, “সবসময়ের মতোই অনন্যা।” আরেকজন কমেন্ট করেছেন, “আপনার হাসিটাই সব সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।”
পরীমণি বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিয়েছেন। এই সময় তিনি দেশের বাইরে সময় কাটাচ্ছেন, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখছেন। নিয়মিত ছবি ও ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে তিনি ভক্তদের জন্য একটি স্থায়ী মনোযোগ তৈরি করছেন। এই ছবিগুলোতে শুধু তার সৌন্দর্যই নয়, বরং মেজাজ, ভ্রমণ এবং জীবনযাপনের স্বচ্ছন্দতা ফুটে উঠেছে।
সেলিব্রিটি জীবনের চাপ এবং কাজের ব্যস্ততা থাকার পরও পরীমণি তার ব্যক্তিজীবন ও অবকাশযাপনকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে জানেন। ভক্তরা শুধু তার সিনেমার চরিত্র নয়, তার বাস্তব জীবনের মুহূর্তগুলোকেও সমানভাবে অনুসরণ করেন। সামাজিক মাধ্যমে তার সরল, ফ্রেশ এবং ফান-ফিল্ড পোস্টগুলো তাকে নেটিজেনদের কাছে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।
মোটকথা, পরীমণির এই মালয়েশিয়ার অবকাশযাপন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ছবিগুলো কেবল ভক্তদের জন্যই নয়, চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্যও আনন্দদায়ক। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, তিনি কেবল চলচ্চিত্রের পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও তার উজ্জ্বলতা বজায় রাখছেন। অবকাশ, সৌন্দর্য, ফ্রেশ মেজাজ এবং ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ—এই সব মিলিয়ে পরীমণি আজও ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রিয় ও আলোচিত চিত্রনায়িকা হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
তার ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে ছেলে পুণ্যকে (রাজ্য) কেন্দ্র করে তার মমতাভরা জীবনযাপন ভক্তদের কাছে বেশ প্রশংসিত। শরীফুল রাজের সাথে বিচ্ছেদের পর তিনি এখন একক মা হিসেবে ক্যারিয়ার এবং পরিবার—দুই ক্ষেত্রেই শক্ত হাতে হাল ধরে আছেন। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে এসে পরীমনি একজন পরিপক্ক শিল্পী এবং আত্মবিশ্বাসী নারী হিসেবে ঢালিউডে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন।
-বিথী রানী মণ্ডল










