ইরানে চলমান রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী তরুণ এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কার্যকর হতে পারে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বর্তমান দফার বিক্ষোভে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম কোনো দাপ্তরিক ফাঁসি।
এরফান সোলতানিকে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানী তেহরানের কাছের শহর কারাজ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এরফানকে কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ বা আইনজীবী দেওয়া হয়নি। সংস্থাটির মতে, ভিন্নমত দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ আবারও ‘দ্রুত বিচার ও নির্বিচার মৃত্যুদণ্ড’ কার্যকর করার পথ বেছে নিয়েছে।
১১ জানুয়ারি এরফানের পরিবারকে মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত আদেশের কথা জানানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর থেকে ইন্টারনেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং কড়া গোপনীয়তা বজায় রাখায় তাঁরা এরফানের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি।
ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
এরফানের সম্ভাব্য ফাঁসি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেবে।” ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মেও বিক্ষোভকারীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ‘সহায়তা আসছে’ বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইরানে ক্রমবর্ধমান প্রাণহানিকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছর ইরানে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। চীন বাদে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এরফানের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে ইরানের পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
-এম.এইচ. মামুন










