আর্টেমিস-২ মিশনে ব্যবহৃত হচ্ছে নাসার নতুন প্রজন্মের ওরিয়ন ক্যাপসুল। যেখানে থেকে নভোচারীরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ অভিযানের মাধ্যমে জীবনরক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের মহাকাশযাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকিং কৌশল পরীক্ষা করা হবে।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার আর্টেমিস–২ অভিযানের অংশ হিসেবে তৈরি করা বিশাল রকেটটিকে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরালের উৎক্ষেপণকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
৫০ বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো চন্দ্রপৃষ্ঠে মনুষ্যবাহী নভোযান পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে নাসা। গতকাল শনিবার রকেটটিকে উৎক্ষেপণ প্যাডে স্থাপন করা হয়।
উৎক্ষেপণ প্যাডে রকেটটির চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও মহড়া চালানো হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে নভোযানটিকে উৎক্ষেপণের অনুমতি দেওয়া হবে। আর্টেমিস–২ নামে ১০ দিনের এ অভিযানে চার নভোচারী অংশ নেবেন। তাঁরা চাঁদের চারপাশে পরিভ্রমণ করবেন।
গতকাল ৯৮ মিটার উঁচু রকেটটিকে খাড়া অবস্থায় ভেহিকেল অ্যাসেম্বলি ভবন থেকে ৪ মাইল (৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার) দূরের উৎক্ষেপণকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে সময় লেগেছে প্রায় ১২ ঘণ্টা।
নাসা বলেছে, রকেটটি উৎক্ষেপণের জন্য কয়েকটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কাছের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি। তা ছাড়া ওই মাসের শেষের দিকেও উৎক্ষেপণের জন্য একাধিক সময়সূচি রয়েছে। মার্চ কিংবা এপ্রিলেও উৎক্ষেপণ করা হতে পারে।
গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় ১২টা ০৪ মিনিট) রকেটটিকে উৎক্ষেপণকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করে নাসা। সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় ২৩টা ৪২ মিনিট) এটি কেনেডি মহাকাশকেন্দ্রের উৎক্ষেপণ প্যাড ৩৯বি-তে পৌঁছায়।
‘ক্রলার-ট্রান্সপোর্টার’ নামে পরিচিত একটি বিশাল যন্ত্র রকেটটি বহন করে নিয়ে যায়। ধীরে ধীরে এগোতে থাকা এ যন্ত্রের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ০ দশমিক ৮২ মাইল। সরাসরি সম্প্রচারে এ ধীরগতির দৃশ্য ধরা পড়েছে।
আর্টেমিস–২ মিশনে অংশ নেবেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ ও কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হানসেন। গতকাল রকেটটি উৎক্ষেপণ প্যাডে স্থাপনের সময় তাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসে নাসার অ্যাপোলো–১৭ মিশন নভোচারী নিয়ে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করেছিল। সেটি ছিল নাসার সবশেষ মনুষ্যবাহী চন্দ্রাভিযান। আর আর্টেমিস–২ হবে অ্যাপোলো ১৭–এর পর নাসার চালানো প্রথম কোনো মনুষ্যবাহী চন্দ্রাভিযান। মনুষ্যবাহী প্রথম চন্দ্রাভিযান ছিল ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই (অ্যাপোলো ১১ মিশন)। নাসা বলেছে, এ অভিযানটি মহাকাশের এমন জায়গায় নভোচারীদের নিয়ে যাবে, যেখানে আগে কেউ যাননি।
মহাকাশ সংস্থাটি আরও বলেছে, আর্টেমিস–২ চাঁদের বুকে অবতরণ করবে না। তবে এটি ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের জন্য আর্টেমিস–৩ অভিযান পরিচালনার ভিত্তি তৈরি করবে।
আর্টেমিস–৩-এ নভোযানের উৎক্ষেপণ ২০২৭ সালের আগে হবে না বলে জানিয়েছে নাসা। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৮ সালের আগে এ অভিযান হবে না।
-মামুন










