মনোনয়ন গ্রহণ-বাতিলের বিরুদ্ধে ইসিতে পঞ্চম দিনের আপিল শুনানি চলছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির পঞ্চম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটরিয়ামে শুনানি শুরু হয়। আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে আপিল নিষ্পত্তির এই শুনানি।প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে অন্য নির্বাচন কমিশনারও আছেন। গত চার দিনে আপিলে ২০৩ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আবার একজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া বাতিল-গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির চতুর্থ দিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। এদিন শুনানিতে ৫৩টি আবেদন মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ৫৩ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। নামঞ্জুর হয়েছে ১৭ জনের আপিল। তাদের মধ্যে বৈধ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে করা দুটি আপিলও খারিজ করা হয়। ফলে ১৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়।

গতকাল যশোর-৪ আসনের বিএনপিপ্রার্থী টি এস আইয়ুবের আপিল নামঞ্জুর হওয়ায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে ঢাকা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক এবং জাতীয় পার্টির পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি।

গতকাল শুনানি শেষে ঋণখেলাপির অভিযোগে যশোর-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টি এস আইয়ুবের মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি। এর আগে ৩০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইকালে ঢাকা ব্যাংকের পক্ষ থেকে যশোরের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসানকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে জানানো হয়, ঋণখেলাপি তালিকায় (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) নাম থাকায় নির্বাচনে যশোর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তালহা শাহরিয়ার আইয়ুবের (টি এস আইয়ুব) প্রার্থিতা যেন গ্রহণ করা না হয়।
ঋণখেলাপির অভিযোগে বাছাইকালে মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ইসির শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পান ঢাকা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক।
এদিন জাতীয় পার্টির পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে ইসি। দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে শুনানিতে আসা জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এ নিয়ে চার দিনে জাপার মোট ২৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পেলেন।

যারা প্রার্থিতা ফিরে পেলেন
পঞ্চগড়-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিমুল ইসলাম বুলবুল, কুমিল্লা-৩-এ গণঅধিকার পরিষদের মুনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম-১০-এ লেবার পার্টির ওসমান গণি, চাঁদপুর-২-এ লেবার পার্টির নাসিমা নাজনীন সরকার, ঢাকা-১২-এ জাতীয় পার্টির সরকার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, বরিশাল-৫-এ খেলাফত মজলিসের মাহবুব আলম, ঢাকা-১২-এ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ শাহজালাল, নওগাঁ-৪-এ স্বতন্ত্র আরফানা বেগম, সিরাজগঞ্জ-৩-এ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আব্দুর রউফ সরকার, ফেনী-১-এ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নাজমুল আলম, চাঁদপুর-২-এ এবি পার্টির রাশিদা আকতার, ঢাকা-৮-এ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম সরোয়ার, ঢাকা-১৩-এ বাসদের খালেকুজ্জামান, বরিশাল-২-এ জাসদের আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম-৭-এ গণঅধিকার পরিষদের বেলাল উদ্দিন, ময়মনসিংহ-৩-এ নেজামে ইসলাম পার্টির আবু তাহের খান, টাঙ্গাইল-৬-এ স্বতন্ত্র জুয়েল সরকার, ঢাকা-১৭-এ স্বতন্ত্র কাজী এনায়েত উল্লাহ, রাজশাহী-৫-এ স্বতন্ত্র জুলফার নাঈম মোস্তফা, রংপুর-৬-এ স্বতন্ত্র খন্দকার শহীদুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬-এ স্বতন্ত্র আবু কায়েস সিকদার, ভোলা-১-এ জাতীয় পার্টির আকবর হোসাইন, ঢাকা-১২-এ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১০-এ স্বতন্ত্র জিন্নাত আকবর, ময়মনসিংহ-১১-এ স্বতন্ত্র মোর্শেদ আলম, ঢাকা-১৩-এ স্বতন্ত্র রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া-১-এ স্বতন্ত্র নুরুজ্জামান, পঞ্চগড়-২-এ জাতীয় পার্টির লুৎফর রহমান, গোপালগঞ্জ-২-এ স্বতন্ত্র উৎপল বিশ্বাস, হবিগঞ্জ-২-এ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নোমান আহমেদ সাদিক, কুমিল্লা-৯-এ জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফা কামাল, কুমিল্লা-২-এ ইসলামী ফ্রন্টের আবদুস সালাম, পাবনা-৪-এ স্বতন্ত্র জাকারিয়া পিন্টু, ঢাকা-১৩-এ গণঅধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান, মাদারীপুর-২-এ স্বতন্ত্র রেয়াজুল ইসলাম, যশোর-৪-এ স্বতন্ত্র ফারহান সাজিদ, চট্টগ্রাম-১১-এ স্বতন্ত্র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, গাজীপুর-৪-এ আমজনতার দলের জাকির হোসেন, ঠাকুরগাঁও-৩-এ স্বতন্ত্র আশা মনি, সিলেট-৩-এ স্বতন্ত্র মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৬-এ জাতীয় পার্টির আইয়ুব হুসেন, ঢাকা-১৮-এ স্বতন্ত্র ইসমাইল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৩-এ স্বতন্ত্র রেজাউল করিম, গাইবান্ধা-২-এ কমিউনিস্ট পার্টির মিহির কুমার ঘোষ, সিরাজগঞ্জ-২-এ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আনোয়ার হোসেন, সিরাজগঞ্জ-৫-এ সিপিবির মতিউর রহমান, মুন্সীগঞ্জ-৩-এ সিপিবির কামাল হোসেন, ঢাকা-৪-এ সিপিবির ফিরোজ আলম, মুন্সীগঞ্জ-১-এ সিপিবর আব্দুর রহমান, ঢাকা-৮-এ কমিউনিস্ট পার্টির ত্রীদ্বিপ কুমার সাহা এবং ঢাকা-৫-এ সিপিবির তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা।

যাদের প্রার্থিতা বাতিল
যশোর-৪ আসনে বিএনপির টিএস আইয়ূব, জয়পুরহাট-১-এ স্বতন্ত্র জালাল উদ্দিন মণ্ডল, নড়াইল-১-এ স্বতন্ত্র গাজী মাহবুয়াউর রহমান, পিরোজপুর-২-এ স্বতন্ত্র মাহমুদ হোসেন, সাতক্ষীরা-১-এ স্বতন্ত্র এস এম মুজিবর রহমান, জামালপুর-৫-এ স্বতন্ত্র হোছনেয়ারা বেগম, হবিগঞ্জ-৪-এ স্বতন্ত্র সালেহ আহমেদ সাজন, রাজশাহী-৫-এ স্বতন্ত্র ইসফা খায়রুল হক, ময়মনসিংহ-৬-এ স্বতন্ত্র তানভীর আহমেদ রানা, নোয়াখালী-৫-এ জেএসডির কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম-১২-এ ডেমোক্রেটিক পার্টির এয়াকুব আলী, রাজশাহী-৩-এ স্বতন্ত্র মো. শাহাবুদ্দিন, রাজশাহী-২-এ স্বতন্ত্র মো. শাহাবুদ্দিন, নরসিংদী-২-এ ইসলামী আন্দোলনের মুহসীন আহমেদ এবং গোপালগঞ্জ-২-এ স্বতন্ত্র সিপন ভূঁইয়া।
গত চার দিনে মোট ২০৩ প্রার্থী ভোটের মাঠে ফিরেছেন। এই চার দিনে ৬১ জনের প্রার্থিতা বাতিলই রইল। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে একজন স্বতন্ত্র বৈধ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র শুনানিতে বাতিল হয়েছে।

-মামুন