ইরান ছাড়তে জরুরি সতর্কতা দিল কানাডা ও ফ্রান্স

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনায় দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ফ্রান্স ও কানাডা।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পৃথক বিবৃতিতে দেশ দুটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানে বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিদেশিদের জন্য দেশটিতে অবস্থান করা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

কানাডা সরকার এক জরুরি বার্তায় তাদের নাগরিকদের বলেছে, “ইরানে চলমান বিক্ষোভ, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং যে কোনো সময় গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকায় সেখানে অবস্থান করা নিরাপদ নয়। যে কোনো উপায়ে দ্রুত ইরান ত্যাগ করতে হবে।” একই সঙ্গে কানাডা স্বীকার করেছে যে, তেহরানে তাদের কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত।

ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ অস্থির। ফরাসি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় সব ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং বর্তমানে যারা সেখানে আছেন, তাদের বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। তেহরানে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাসের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে প্যারিস।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের চলমান আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের সাহস জুগিয়ে তিনি লিখেছেন, “সহায়তা আসছে।”

অন্যদিকে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই অস্থিরতার জন্য শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে তেহরান। ইরান সরকারের দাবি, শুরুতে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিদেশি মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এতে ঢুকে সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের সাম্প্রতিক বৈরী সম্পর্ক এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ—এই দুই মিলে ইরান এখন এক বিস্ফোরক পরিস্থিতির মুখে। বড় কোনো সংঘাতের আশঙ্কায় পশ্চিমা দেশগুলো।

-এম. এইচ. মামুন