ইরানে নিহত ২৪০০-এর বেশি : মার্কিন সংস্থা

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA)-এর বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই গণআন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরান ছাড়তে নিজেদের নাগরিকদের জরুরি নির্দেশ দিয়েছে ফ্রান্স ও কানাডা।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১২ জন রয়েছে যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এছাড়া আন্দোলন সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। তবে ইরানে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক অস্থিরতা শুরুর পর এটিই তেহরানের পক্ষ থেকে প্রথম বড় কোনো পরিসংখ্যান। তবে ওই কর্মকর্তার দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িয়ে পড়ায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় নিজ দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে কানাডা ও ফ্রান্স। কানাডা সরকার জানিয়েছে, সেখানে যেকোনো সময় নির্বিচারে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি রয়েছে এবং বর্তমানে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার সুযোগও সীমিত। অন্যদিকে ফরাসি নাগরিকদের সব ধরনের জনসমাবেশ এড়িয়ে চলতে এবং তেহরানে থাকা ফরাসি দূতাবাসের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

বিক্ষোভের এই উত্তাল সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, “সহায়তা আসছে।”

অন্যদিকে, ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তেহরানের দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দিতে বিদেশি মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কাজ করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে অভ্যন্তরীণ বিশাল জনরোষ এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে ইরান এখন গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। দেশটির প্রধান প্রধান শহরগুলোতে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

-এম. এইচ. মামুন