মাদাগাস্কারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘গেজানি’ আঘাত হানার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি, ঘণ্টায় তীব্র গতির ঝোড়ো হাওয়া, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। খবর আলজাজিরার।
মেটিও মাদাগাস্কার স্থানীয় সময় রাত ১টার (১১ ফেব্রুয়ারি ভোররাত) আপডেটে জানায়, ঝড়টি পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে দেশের মধ্যাঞ্চলীয় উচ্চভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর ফলে বিস্তৃত এলাকায় বন্যা, আকস্মিক প্লাবন ও ভূমিধস “অত্যন্ত সম্ভাব্য”। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আনালানজিরোফো, আতসিনানানা, আলাওত্রা মাঙ্গোরো, আনালামাঙ্গা ও বেতসিবোকা অঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে, যার অর্থ তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা। পূর্ব উপকূলীয় বন্দরনগরী তোয়ামাসিনার এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “এটা ভয়াবহ। সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরের ছাদ উড়ে গেছে, মেঝে পানিতে তলিয়ে গেছে, মজবুত বাড়ির দেয়ালও ভেঙে পড়েছে।” তিনি জানান, ঝড় আঘাত হানার পাঁচ ঘণ্টা আগেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ফ্রান্সের রিইউনিয়ন দ্বীপভিত্তিক সিএমআরএস ঘূর্ণিঝড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তোয়ামাসিনা বন্দর ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে তীব্র অংশের সরাসরি আঘাতে পড়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, স্যাটেলাইট যুগে এই অঞ্চলে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি হতে পারে গেজানি, যা ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় জেরালদার সঙ্গে তুলনীয়। ওই ঝড়ে অন্তত ২০০ জন নিহত এবং প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। স্থলভাগে প্রবেশের পর গেজানি কিছুটা দুর্বল হয়ে ট্রপিক্যাল স্টর্মে পরিণত হলেও, এটি মোজাম্বিক চ্যানেলে প্রবেশের পর আবারও ঘূর্ণিঝড়ে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঝড়টি মাইনতিরানো ও মোরন্দাভার মাঝামাঝি দিয়ে মোজাম্বিক চ্যানেলে প্রবেশ করে আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
উল্লেখ্য, গেজানির আঘাত আসে মাত্র ১১ দিন পর, যখন ৩১ জানুয়ারি উত্তর-পশ্চিম মাদাগাস্কারে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ফাইটিয়া অন্তত ১২ জনের প্রাণ কেড়ে নেয় এবং ৩১ হাজার মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানায়, ফাইটিয়া ১৮ হাজার ৬০০ ঘরবাড়ি, ৪৯৩টি শ্রেণিকক্ষ ও ২০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি ধানের খেতে ব্যাপক ক্ষতি ও পানীয় জলের উৎস দূষিত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠ ও সমুদ্রস্তর বৃদ্ধির কারণে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে ঘূর্ণিঝড়গুলো। দ্বীপরাষ্ট্রগুলো এ কারণে বাড়তি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
-বেলাল হোসেন










