তেলের বাজারে ‘ইরান ইফেক্ট’: ব্যারেলপ্রতি দাম ছাড়াল ৬৪ ডলার

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারিতে তেলের দামে বড় ধরনের লাফ লক্ষ্য করা গেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১.০৬ ডলার বেড়ে ৬৪.৯৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংক বার্ক্লেস তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে তেলের মূল্যের সঙ্গে প্রতি ব্যারেলে ৩ থেকে ৪ ডলার ‘ভূ-রাজনৈতিক রিস্ক প্রিমিয়াম’ যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখবে, তাদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইরানের তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই রপ্তানি হয় চীনে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বেইজিং ও তেহরানের মধ্যকার সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে বড় আতঙ্ক কাজ করছে ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে। বিশ্বের মোট তেলের একটি বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অভ্যন্তরীণ সংকটে কোণঠাসা হয়ে ইরান যদি এই পথ বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। আইএনজি গোষ্ঠীর পণ্য কৌশলবিদদের মতে, ট্রাম্পের বারবার সামরিক হুমকি এই শঙ্কাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

ওপেকের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ইরানের যেকোনো অস্থিতিশীলতা বিশ্ববাজারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে থাকা দেশটির ওপর নতুন করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলবে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

-এম. এইচ. মামুন