ট্রাম্পের হুমকির পর কেন হঠাৎ আলোচনার টেবিলে ইরান

টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন গণবিক্ষোভে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ইরান। মুদ্রাস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ক্ষমতাসীনদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে দাঁড়িয়েছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, সরকারি দমনপীড়নে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৯ জনই শিশু। ১০ হাজার ৬৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। তবে কোনো কোনো বিরোধী গোষ্ঠীর দাবি, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়াতে পারে।

বিক্ষোভের ভয়াবহতা আড়াল করতে গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে অন্তত ৮৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছে তেহরান। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘নেটব্লকস’ একে সংকটের তীব্রতার ইঙ্গিত বলে বর্ণনা করেছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তেহরানের দক্ষিণে একটি মর্গের বাইরে সারি সারি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সমালোচকদের মতে, দমনপীড়নের নগ্ন চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে গোপন করতেই এই ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’ জারি করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়ন চললে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সোমবার সামাজিক মাধ্যমে ফেরাউন ও নমরুদের উদাহরণ টেনে বলেন, “অহংকারী ও অত্যাচারীদের যেভাবে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা হয়েছে, বর্তমানের অহংকারীদেরও (ট্রাম্প) একইভাবে উৎখাত করা হবে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার হুমকির পর ইরানের নেতারা আলোচনায় বসতে চেয়ে তাকে ফোন করেছেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “তারা কথা বলতে চায়, একটি বৈঠকের আয়োজন হচ্ছে।” তবে তেহরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, “আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত। পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকলে আমরা আলোচনায় আগ্রহী।”

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে এবার পাল্টা সমাবেশের ডাক দিয়েছে তেহরান। সোমবার রাজধানীর এঙ্গেলাব স্কয়ারে হাজার হাজার সরকারপন্থি মানুষ ‘আমেরিকা মুর্দাবাদ’ ও ‘ইসরায়েল মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন। তেহরানের গভর্নর দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা কমে আসছে। তবে বিরোধী পক্ষগুলো বলছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, এই দমনপীড়ন সরকারের দুর্বলতারই লক্ষণ। কানাডাও বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

-এম. এইচ. মামুন