অস্বাভাবিক কঠিন প্রশ্নে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার প্রধান পদত্যাগ করেছেন, যা দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার মর্যাদাপূর্ণ কলেজ ভর্তি পরীক্ষা ‘সুনেউং’-এ ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্ন মাত্রাতিরিক্ত কঠিন হওয়ায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন দেশটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান। ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় ইংরেজি অংশে মাত্র ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন, যা ২০১৮ সালের পর সর্বনিম্ন সাফল্যের রেকর্ড।
পরীক্ষাটিতে কান্টের দর্শন ও বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বোধগম্যের বাইরে ছিল। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমস এই প্রশ্নপত্রকে ‘মাথা ঘোরানো’ বলে উল্লেখ করেছে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিলেও ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা একে যথেষ্ট বলে মনে করছেন না। তারা বলছেন, এ ভুলের কারণে হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘সুনেউং’ পরীক্ষাটি শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনের প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত। পরীক্ষার দিন শব্দদূষণ এড়াতে দেশটিতে বিমান চলাচল পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়। তবে প্রতিবছর প্রশ্নপত্রের কাঠিন্য এবং বিপুল মানসিক চাপের কারণে এই পদ্ধতিটি বিতর্কের মুখে পড়ছে। এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ১২৬ জনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। ভবিষ্যতে পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে মিল রেখে প্রশ্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মালিহা










