মাদক পাচারকারীদের নৌকায় হামলা চালাতে বেসামরিক বিমানের ছদ্মবেশ ধারণ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী—নিউ ইয়র্ক টাইমসের এমন এক প্রতিবেদনে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। ২ সেপ্টেম্বরের সেই অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে দানা বাঁধছে চরম বিতর্ক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা একটি নৌকায় হামলার সময় ব্যবহৃত মার্কিন যুদ্ধবিমানটিতে কোনো সামরিক চিহ্ন ছিল না। এমনকি অস্ত্রগুলোও ফিউজলেজের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে দূর থেকে সেটিকে সাধারণ বেসামরিক বিমান মনে হয়। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন অনুযায়ী, বেসামরিক পরিচয়ের ভান করে শত্রুপক্ষকে আক্রমণ করা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে গণ্য, যা একটি গুরুতর যুদ্ধাপরাধ।
মার্কিন বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল স্টিভেন লেপার বলেন, “নিজের পরিচয় গোপন করা জঘন্য অপরাধ। যদি কোনো বিমান যুদ্ধবিমান হিসেবে শনাক্তযোগ্য না হয়, তবে সেটির সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া অবৈধ।”
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আরও ভয়ংকর তথ্য। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নৌকাটি ধ্বংস হলেও দুজন ব্যক্তি বেঁচে যান। তারা ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে আকাশপথে থাকা ওই ছদ্মবেশী বিমানটিকে সাধারণ উদ্ধারকারী যান ভেবে সাহায্যের জন্য হাত নাড়ছিলেন। কিন্তু বিমানটি ফিরে এসে দ্বিতীয়বার হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করে। আন্তর্জাতিক আইনে এই ‘ডাবল ট্যাপ’ পদ্ধতি এবং জাহাজডুবিতে পড়া অসহায় মানুষের ওপর হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানে ১১ জন ‘মাদক সন্ত্রাসী’ নিহতের দাবি করে একে জাতীয় নিরাপত্তার জয় হিসেবে প্রচার করছেন। তিনি মাদক কারবারিদের ‘অবৈধ যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক পাচার একটি ফৌজদারি অপরাধ, কোনো সশস্ত্র যুদ্ধ নয়। ফলে এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
অভিযোগ উঠেছে, লক্ষ্যবস্তু নৌকাগুলো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নিয়ন্ত্রণাধীন সংগঠনের ছিল। উল্লেখ্য, এই মাসের শুরুতেই মার্কিন বাহিনী নাটকীয় এক অভিযানে মাদুরোকে অপহরণ করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই ‘ছদ্মবেশী হামলা’র তথ্য ফাঁস ট্রাম্প প্রশাসনের পুরো মাদকবিরোধী অভিযানকে আইনি ও নৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছে।
হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত এই প্রতিবেদন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে কংগ্রেসের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সামরিক নেতারা এই ‘প্রতারণামূলক কৌশল’ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
-এম. এইচ. মামুন










