মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরকান আর্মির (এএ) ভয়াবহ তাণ্ডবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে টেকনাফ সীমান্ত। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুজাইফা আফনানের অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মাথার খুলির একাংশ আলাদা করে ফ্রিজে রাখা হয়েছে। এদিকে একই এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামে এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গুলিবিদ্ধ শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যাং তেচ্ছাব্রিজ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে গুলিবিদ্ধ হয় হুজাইফা। তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চমেক হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানান, রোববার রাত থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত দীর্ঘ অস্ত্রোপচার চললেও মস্তিষ্কের অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থানে থাকায় গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। তবে মস্তিষ্কের চাপ কমাতে মাথার খুলির একাংশ খুলে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে।
অভ্যন্তরে ঢুকে হামলার অভিযোগ হুজাইফার চাচা ও স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক শওকত আলী দাবি করেন, সীমান্ত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে। তিনি বলেন, “সীমান্তের ওপার থেকে গুলি লোকালয়ে আসার কথা নয়। মূলত দেশের অভ্যন্তরে ‘হউসের দ্বীপ’ এলাকায় অবস্থান নেওয়া সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে।”
স্থলমাইন বিস্ফোরণে যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হওয়ার মাত্র এক দিন পর সোমবার সকালে একই এলাকায় নাফ নদীর পার্শ্ববর্তী দ্বীপে স্থলমাইন বিস্ফোরণের শিকার হন হানিফ নামে এক যুবক। এতে তার একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আরকান আর্মি পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই এলাকায় নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখে গেছে।
সীমান্তে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি হোয়াইক্যাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের জেরে একটি পক্ষ নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাদের পিছু ধাওয়া করে আরকান আর্মিও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে চলে আসে এবং গোলাগুলি চালায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, “সীমান্তে আরকান আর্মির মাইন পোঁতার ঘটনা নতুন নয়। আমরা সীমান্তের বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছি।”
বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।