জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্য কোনো নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না—নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এমন নির্দেশনার খবরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং নির্ধারিত সময়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে সোমবার মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রাত ১১টার দিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা শাকসু ভবন ঘেরাও করে রাখেন। এসময় শিক্ষার্থীরা “শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার”, “শাকসু দিতে হবে ২০ তারিখে”, “শাকসু নিয়ে টালবাহানা, মানি না মানব না” ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থী নেতাদের বক্তব্য
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন আবারও পিছিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে, যা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করার শামিল।
শাবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এর নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি ইসির সিদ্ধান্ত মেনে নেয়, তাহলে আমরা ধরে নেব তারা শিক্ষার্থীবান্ধব নয়।”
ছাত্রশিবিরের শাখা সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি শাকসু নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়েছে। উপাচার্য স্যার প্রথমে বলেছিলেন নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন হবে, পরে অনেক টালবাহানার পর ১৭ নভেম্বরের তারিখ দেওয়া হয়। এখন আবার পেছানোর চেষ্টা চলছে।”
অসুস্থ হয়ে পড়লেন প্রার্থী
বিক্ষোভ চলাকালে বিজয়-২৪ হলের ভিপি প্রার্থী ও ছাত্রদল নেতা খলিলুর রহমান চাঁদ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম জানান, তারা নির্বাচন কমিশন থেকে এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাননি। তিনি বলেন, “আমাদের নির্বাচনের যে চলমান প্রক্রিয়া, তা অব্যাহত রয়েছে। সেই অনুযায়ীই শাকসুর নির্বাচন কমিশন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।”
মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক










