১৬ বছর পর পৌঁছাল ২০১০ সালে অর্ডার করা ফোন

ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়ার ত্রিপোলিতে এক মোবাইল ফোন বিক্রেতার কাছে অবশেষে পৌঁছেছে ২০১০ সালে অর্ডার করা নোকিয়া ফোনের একটি চালান প্রায় ১৬ বছর পর। অবিশ্বাস্য এই বিলম্বের পেছনে রয়েছে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গৃহযুদ্ধজনিত লজিস্টিক বিপর্যয়।

চালানটিতে ছিল বোতামচালিত ক্লাসিক নোকিয়া ফোন, মিউজিক এডিশন হ্যান্ডসেট এবং এক সময়ের প্রিমিয়াম হিসেবে পরিচিত প্রাথমিক যুগের “কমিউনিকেটর” সিরিজের ডিভাইস। ২০১১ সালে লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে দেশটির কাস্টমস ও পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এর ফলে ত্রিপোলির ভেতরেই মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে থাকা প্রেরক ও গ্রাহকের মাঝখানে থাকা এই চালানটি বছরের পর বছর গুদামে আটকে থাকে।

সম্প্রতি দোকানদার যখন পুরোনো বাক্সগুলো খুলে দেখেন, সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে বন্ধুদের সঙ্গে হাসতে হাসতে বলতে শোনা যায়—এগুলো মোবাইল ফোন, নাকি জাদুঘরের নিদর্শন! মন্তব্যটি প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সময়ের ব্যবধানকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। মজার বিষয় হলো প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে দূরত্ব ছিলো কয়েক কিলোমিটার এবং দুজনেই ত্রিপোলি শহরের বাসিন্দা।

ঘটনাটি অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে হাস্যরসের সঙ্গে দেখলেও, অনেকে মনে করছেন দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কীভাবে সাধারণ ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনকে থামিয়ে দিতে পারে, এটি তার এক জীবন্ত উদাহরণ। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, এই ফোনগুলো এখন সংগ্রাহকদের কাছে মূল্যবান ভিনটেজ সামগ্রী হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

উল্লেখ্য, লিবিয়া বর্তমানে বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ স্বীকৃত গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটি (GNU)–এর নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা। অন্যদিকে, দেশের পূর্বাঞ্চলে রয়েছে জেনারেল খলিফা হাফতারের সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসন, যা বেনগাজিভিত্তিক প্রতিনিধি পরিষদের সঙ্গে সংযুক্ত। এই বিভাজনের সূত্রপাত ২০১১ সালে ন্যাটো–সমর্থিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন ও মৃত্যুর পর, যার ফলে লিবিয়া দীর্ঘস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থায় পড়ে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড