গাজায় সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরায়েলের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে: আল জাজিরার অনুসন্ধান

ছবিঃ সংগৃহীত

গাজায় সক্রিয় কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কাজ করছে-এমন বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে আল জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ডকুমেন্টারিটিতে এসব গোষ্ঠীর নাম, চলাচলের পথ এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

আল জাজিরার সাংবাদিক তামের আল-মিশালের উপস্থাপনায় হোয়াট ইজ হিডেন ইজ গ্রেটার অনুষ্ঠানের নতুন পর্বটি শুক্রবার দোহা সময় রাত ৯টায় (গ্রিনিচ মান সময় ১৮:০০) সম্প্রচার হওয়ার কথা। প্রতিবেদনে অডিও ও ভিডিও প্রমাণের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, কীভাবে গাজার ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তারা কীভাবে কার্যক্রম চালায়।

অনুসন্ধানে বলা হয়, এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী গাজার উত্তর ও দক্ষিণ অংশে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর ভেতরে অবাধে চলাচল করছে। এই রেখাটি মূলত একটি বাফার জোন, যেখানে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছে। যদিও যুদ্ধবিরতির কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করছে এবং এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫২৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইসরায়েলি সামরিক মানচিত্র অনুযায়ী, এই ‘ইয়েলো লাইন’ গাজার পূর্ব সীমান্ত থেকে ১.৫ থেকে ৬.৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এবং পুরো গাজার প্রায় ৫৮ শতাংশ এলাকা এর আওতায় পড়ে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এসব গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের জন্য নিষিদ্ধ এলাকাতেও চলাচল করছে। যদিও অভিযুক্ত কয়েকটি গোষ্ঠী প্রকাশ্যে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বীকার করেন যে, হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গাজায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করছে ইসরায়েল। তিনি বলেন, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পরামর্শে সরকার গাজার কিছু শক্তিশালী স্থানীয় গোষ্ঠীকে ‘সক্রিয়’ করেছে। সম্প্রতি রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় ফিরে আসা এক ফিলিস্তিনি নারী রয়টার্সকে জানান, ইসরায়েল-সমর্থিত ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সদস্যরা তাকে একটি চেকপয়েন্টে থামায়। তারা নিজেদের ‘পপুলার ফোর্সেস’ বা আবু শাবাব মিলিশিয়ার সদস্য বলে পরিচয় দেয়। ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার পরিবারের সদস্যদের নাম মাইকে ঘোষণা করা হয় এবং পরে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতিতে তাদের দেহ তল্লাশি, চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আল জাজিরার অনুসন্ধানে বলা হয়, পপুলার ফোর্সেস নামের গোষ্ঠীটি ইয়াসের আবু শাবাব প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি গত ডিসেম্বরে নিহত হন এবং বর্তমানে গোষ্ঠীটির নেতৃত্বে রয়েছেন ঘাসসান আল-দাহিনি। আবু শাবাব একসময় দাবি করেছিলেন, তার যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা ‘হিউম্যানিটারিয়ান’ ফাউন্ডেশনের ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ রক্ষা করছিল। তবে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এসব গোষ্ঠীই গাজার ত্রাণ লুট করে তা দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের কাছে বিক্রি করছিল। এ নিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হামাসের সঙ্গে তাদের একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া ‘স্ট্রাইক ফোর্স অ্যাগেইনস্ট টেরর’ নামে আরেকটি গোষ্ঠীকেও ইসরায়েল সমর্থন দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দলটির নেতা হুসাম আল-আস্তাল, যিনি একসময় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন এবং নব্বইয়ের দশকে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হন।

আল জাজিরার তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৭১ হাজার ৮৫১ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৬২৬ জন আহত হয়েছেন।

-বেলাল হোসেন