১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা ভাবছে জার্মানির ক্ষমতাসীন দল সিডিইউ

ছবি: সংগৃহীত

শিশু ও কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে জার্মানিতে। এই প্রেক্ষাপটে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আইনগত সীমা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সিডিইউর শীর্ষ নেতারা মনে করছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশ শিশুদের ডিজিটাল সচেতনতার সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে অনলাইন ঘৃণা, ভুয়া তথ্য ও সহিংস কনটেন্ট থেকে কিশোরদের সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। খবর রয়টার্সের।

সিডিইউর শ্রম শাখার প্রধান ডেনিস রাডকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন অনেক ক্ষেত্রে ঘৃণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ অনুসরণ করে বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী প্রথম দেশ হিসেবে আলোচনায় আসে।
জার্মান গণমাধ্যম বিল্ড জানিয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য শ্লেসভিগ-হোলস্টাইনের সিডিইউ শাখা দলটির আসন্ন জাতীয় কংগ্রেসে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। আগামী ২০–২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসতে পারে। বর্তমানে জার্মানির জোট সরকারে সবচেয়ে বড় দল সিডিইউ, যেখানে কেন্দ্র-বাম দল এসপিডিও রয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য ১৬ বছরকে ন্যূনতম বয়স হিসেবে নির্ধারণ এবং বাধ্যতামূলক বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হলে তরুণদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। যদিও সব প্ল্যাটফর্মের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে টিকটক ও মেটার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের কথা প্রস্তাবে উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে সিডিইউর মহাসচিব কারস্টেন লিনেমানও কড়াকড়ি বয়সসীমার পক্ষে মত দিয়েছেন। তার ভাষায়, “শিশুদের শৈশবের অধিকার রয়েছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় ঘৃণা, সহিংসতা, অপরাধ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া তথ্য থেকে তাদের সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

এদিকে জার্মানিতে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে তরুণদের অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি বিশেষ কমিশন গঠন করেছে, যা চলতি বছরেই প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজ্য পর্যায়ের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রকদের সমন্বয়কারী সংস্থার প্রধান থরস্টেন শ্মিগে বলেন, সাইবার বুলিং, অনলাইন যৌন হয়রানি ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের মতো বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো স্বেচ্ছায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার পথও বিবেচনায় আসতে পারে।
-সাবরিনা রিমি