উপনিবেশবাদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের একদিন পর নিউজিল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড সেমুর প্রকাশ্য প্রতিবাদ ও অসন্তোষের মুখে পড়েছেন। শুক্রবার ভোরে ঐতিহাসিক ওয়াইটাঙ্গি ট্রিটি গ্রাউন্ডসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রার্থনা করতে দাঁড়ালে উপস্থিত জনতার একাংশ উচ্চস্বরে আপত্তি ও অসন্তোষ প্রকাশ করে। খবর আলজাজিরার।
১৮৪০ সালে ব্রিটিশ ক্রাউন ও ৫০০-র বেশি মাওরি গোত্রপ্রধানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ওয়াইটাঙ্গি চুক্তির স্মরণে প্রতি বছর এই স্থানে ওয়াইটাঙ্গি ডে পালিত হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত রাজনৈতিক সমাবেশে মাওরি জনগোষ্ঠী তাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক দাবিদাওয়া তুলে ধরে থাকে। এর আগের দিন ওয়াইটাঙ্গি ডে উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে ডেভিড সেমুর বলেন, উপনিবেশবাদ মাওরি জনগণের জন্য পুরোপুরি নেতিবাচক ছিল-এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। তার মতে, উপনিবেশবাদের কিছু দিক মাওরি জনগণের জন্য ইতিবাচক প্রভাবও ফেলেছে। এই বক্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। শুক্রবারের ঘটনার পর সেমুর প্রতিবাদকারীদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, দেশের বৃহৎ অংশের মানুষ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বিরক্ত। একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিরোধী লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিন্সও জনতার অসন্তোষের মুখে পড়েন।
এর আগে বৃহস্পতিবার মাওরি নেতা এরু কাপা-কিঙ্গি সংসদে অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার মাওরি জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই সরকার আমাদের সামনে থেকে আঘাত করেছে, আর আগের সরকার পেছন থেকে।’ ডেভিড সেমুরের নেতৃত্বাধীন সরকার মাওরি জনগণের জন্য বিদ্যমান বিশেষ অধিকার ও বৈষম্য নিরসনে গৃহীত নীতিমালা প্রত্যাহারের চেষ্টা করছে-এমন অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলে ভূমি হারানো মাওরি জনগোষ্ঠী এখনও দারিদ্র্য, স্বল্প আয়ু ও কারাবরণের ক্ষেত্রে অ-মাওরি জনগণের তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন জাতীয় ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উপনিবেশবাদের উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক অবশ্যই সভ্য ও সংযত পরিবেশে হওয়া উচিত। ‘আমরা সহিংসতার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটাই না। আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে যাই,’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্লেষকদের মতে, উপনিবেশবাদের ইতিহাস ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিতর্ক সাবেক উপনিবেশিক দেশগুলোতে-বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায়-এখনও গভীরভাবে সংবেদনশীল ও বিভাজনমূলক ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
-বেলাল হোসেন










