ঢাবি জুলাইযোদ্ধাকে হিজবুত তাহরির সংশ্লিষ্টতার মামলায় আটক

ছবি- সংগৃহীত।

জুমার নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে আটক করে নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলা করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদের সামনে থেকে আটক হওয়ার পর বর্তমানে তিনি কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম সাদ ইবনে মাহবুব। শনিবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের কাছে যে ছবি দেখিয়ে সাদকে আটক করা হয়েছে, সেই ছবির ব্যক্তি পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত ছিলেন; অথচ আটক হওয়ার সময় সাদ শার্ট-প্যান্ট পরা ছিলেন। থানায় তোলা ছবিতেও তাঁকে শার্ট-প্যান্ট পরা অবস্থায় দেখা গেছে বলে দাবি পরিবারের।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরিরের কয়েকজন সদস্য লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় পুলিশ অভিযান চালালে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়, তাঁদের একজন সাদ। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদ মসজিদের পাশের একটি বাসায় টিউশন পড়ান এবং সে কারণেই ওই মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় অভিযানের মধ্যে পড়ে অন্যদের সঙ্গে তাঁকেও আটক করা হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯-এর ৮, ৯, ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। এতে তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান। অন্য দুই গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন শাকিল আহাম্মদ (৩০) ও কাওছার হোসেন (১৯)।

আদালত সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলেও ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, হিজবুত তাহরিরের সদস্যরা ব্যানার টানিয়ে মাইক ব্যবহার করে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার করছিলেন—এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, একটি ব্যানার এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করার কথা বলা হয়েছে।

সাদের বাবা মাহবুবুল হক অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ছেলে কোনো নিষিদ্ধ বা রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি বলেন, “ছেলে নামাজ পড়তে গিয়েছিল। বের হওয়ার সময় কী হচ্ছে দেখতে দাঁড়িয়েছিল হয়তো। সিভিল ড্রেসে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। থানায় গিয়ে যে ছবি দেখানো হয়েছে, তা আমার ছেলের সঙ্গে মেলে না।”

তিনি আরও বলেন, “ওসি আমাদের বলেছেন, উপর থেকে নির্দেশ এসেছে, মামলা দিতে হবে। জামিন নিতে আদালতে যেতে হবে। একটা ছাত্রের জীবন এভাবে নষ্ট করা ঠিক কি না, সেই প্রশ্নই করছি।”

এ বিষয়ে মামলার বাদী এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, হিজবুত তাহরিরের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার সময় তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সাদের হাতে লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিল।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিকুল ইসলাম পরিবারের অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর দাবি করে বলেন, “আমরা আসামিদের হাতেনাতে ধরেছি। তদন্তে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। যদি কারও সংশ্লিষ্টতা না থাকে, তদন্তে সেটাও বেরিয়ে আসবে।”

মালিহা