বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন: শিক্ষক নেটওয়ার্কের তীব্র প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে থাকা হল ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগকে রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ বলে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এছাড়া তারা এ ধরনের নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিবৃতিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক অভিযোগ করে, বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের নিন্দনীয় সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

বিশেষ করে গত ১৭ বছরে এই প্রবণতা চরম আকার ধারণ করেছে, যেখানে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সংগঠনটি এটিকে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে পারিবারিকীকরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসিক হল, অনুষদ ভবন, বিভাগ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমনকি সড়ক ও চত্বরের নামও রাজনৈতিক বিবেচনায় বদলে ফেলার ঘটনা ঘটছে। রাষ্ট্র ও জনগণের অর্থ ব্যয় করে কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায় নামকরণের এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত।

বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তনের উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষক নেটওয়ার্ক বলেছে, এই সিদ্ধান্তগুলো ইতিহাস ও সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত বিষয়গুলো মুছে দেওয়ার রাজনৈতিক নীলনকশার অংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গে বলা হয়, প্রায় ৪০ বছর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি হলের নাম পরিবর্তন করে শহিদ ওসমান হাদির নামে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। শিক্ষক নেটওয়ার্ক এ ধরনের পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে। তারা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে শহিদ হাদির নামে নতুন কোনো ভবনের নামকরণ করা যেতে পারে।

সংগঠনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে, নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি করেছে।

-এমইউএম