ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ এখন এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি (IRGC)-র ৮ সদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহতে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় এই ঘটনা ঘটে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে শুক্রবার আল জাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে।আইআরজিসি (IRGC)-র ৮ সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের হামলায় দেশটির শক্তিশালী এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি)
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA)। নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং আইআরজিসি ও পুলিশসহ ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য রয়েছেন। এছাড়া এই সংঘর্ষে অন্তত ৩০০ জন নিরাপত্তা সদস্য আহত হয়েছেন।
বিক্ষোভ প্রশমিত করতে ইরান সরকার প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ৭ ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই সামান্য সহায়তায় বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়নি। উল্টো সরকারের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং নিরাপত্তা বিভাগ আন্দোলনকারীদের ‘সশস্ত্র নাশকতাকারী’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আইআরজিসি-র গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, ‘শত্রুর পরিকল্পনা’ নস্যাৎ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। খামেনি দাবি করেছেন, ইরানিদের রক্ত ট্রাম্পের হাতে লেগে আছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করবে।
যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘও এই সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দায় চাপালেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইআরজিসি সদস্যদের নিহতের পর ইরান সরকার এখন দেশজুড়ে বড় ধরনের সামরিক দমন অভিযান শুরু করতে পারে, যা দেশটিকে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
-এম. এইচ. মামুন










