নিজের জন্মদিনে অন্যের মুখে হাসি ফোটালেন মিমি

নন্দিত অভিনেত্রী ও নির্মাতা আফসানা মিমি গত ২০ ডিসেম্বর ৫৭ বছরে পা রেখেছেন। তবে জন্মদিন এলেই তিনি কোনো বড় আয়োজন বা উদযাপনে অংশ নেন না। বরং ঢাকার ইস্কাটনের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যান এবং সেদিন সেখানে জন্ম নেওয়া শিশুদের পরিবারের অজান্তেই কিছু উপহার পৌঁছে দেন। বছরের পর বছর এই মানবিক কাজটি নিঃশব্দে করে যাচ্ছেন মিমি, যা বহু মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

পডকাস্টে মিমি নিজের নাম নিয়েও একটি মজার তথ্য জানিয়েছেন। ছোটবেলায় তিনি ‘মিমি’ চকোলেট খুব পছন্দ করতেন। সেখান থেকেই নিজের আগ্রহে এই নামটি বেছে নেন। তার আসল নাম আফসানা করিম। বড় বোন অ্যানির সঙ্গে মিল রেখে পরিবারের দেওয়া ডাকনাম ছিল ‘জুনি’। বাবা ডাকতেন ‘মিম’। এরপরই তিনি ‘মিমি’ নামটি নিজের করে নেন। মজা করে বলেন, “আমি হয়তো পৃথিবীর একমাত্র শিশু, যে নিজের নাম নিজেই চূড়ান্ত করেছে।”

সম্প্রতি আফসানা মিমি এই উদ্যোগের পেছনের কারণ প্রকাশ করেছেন। জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’র দ্বিতীয় মৌসুমের ষষ্ঠ পর্বে রুম্মান রশীদ খানের সঙ্গে আলাপে তিনি জীবনের নানা অজানা গল্প শেয়ার করেন। সেখানে মিমি বলেন, তার জন্মদিন উদযাপন করা নয়, বরং নতুন জন্ম নেওয়া শিশুদের কিছু উপহার দিয়ে তাদের আনন্দে অংশ নেওয়াই তার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

এই ব্যক্তিগত গল্প এবং মানবিক কর্মকাণ্ড মিমিকে সাধারণ থেকে আলাদা করে তুলে ধরেছে। শুধু তার অভিনয় ও নির্মাণের প্রতিভাই নয়, মানবতার প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বছরের পর বছর নিঃশব্দে করা এই কাজ তার ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য আরও প্রকাশ করে, যা অনেকে অনুসরণ করতে চায়। আফসানা মিমির এই দৃষ্টান্ত দেখিয়ে দেয়, মানুষের ছোট্ট সহানুভূতি ও দানশীলতা সমাজে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মিমির জীবনের এই গল্প প্রমাণ করে, তিনি কেবল পর্দার নায়িকা নয়, বরং বাস্তব জীবনেও একটি মানবিক এবং উদার হৃদয়ের অধিকারী।

বিথী রানী মণ্ডল/