উত্তপ্ত বাংলাদেশ। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। রাজধানী থেকে জেলা—সবখানেই অস্থিরতার ছবি। কোথাও বিক্ষোভ, কোথাও সংঘর্ষ, কোথাও আতঙ্ক। অনেকের কাছেই বাংলাদেশ যেন রীতিমতো রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে। রাতের ঘুম উড়ে গেছে সাধারণ মানুষের। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা—সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটি।
এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে দেশের শিল্প-সংস্কৃতিতেও। থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শুধু বাংলাদেশ নয়, এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এ পার বাংলার শিল্পীরাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী দেশের বর্তমান অবস্থা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই অস্থিরতা আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে মুখ খুলেছেন বলিউড ও টালিগঞ্জের প্রখ্যাত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আবেগের সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের কথা স্মরণ করেই তিনি নিজের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে আছে। খুবই দুঃখিত এই পরিস্থিতির জন্য। এই বাংলাদেশকে আমি চিনতে চাই না, জানতেও চাই না। আমার কোনও আগ্রহ নেই। সব কিছুর শেষ আছে, এই বার্তাই দিতে চাই। উপরওয়ালা সব দেখছে। এর দাম সবাইকে দিতেই হবে।” তাঁর কথায় ফুটে উঠেছে গভীর হতাশা এবং এক ধরনের সতর্ক বার্তা।
শুধু মিঠুন নন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টালিগঞ্জের আরও অনেক তারকা। দেব, কোয়েল মল্লিক, চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর মতো অভিনেতারাও শান্তির পক্ষে কথা বলেছেন। সম্প্রতি দেব এই প্রসঙ্গে বলেন, “মাঝে মাঝে ভয় লাগে। খবর দেখে মনে হচ্ছে, এখানেও যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। মনে হচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশ, ভারত-পাকিস্তান বা ভারত-চিনের যুদ্ধ লেগে যাবে। কিন্তু এটা কাম্য নয়।” তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট আতঙ্ক ও মানবিক আবেদন।
দেব আরও বলেন, মানুষ আসলে খুব সাধারণ চাওয়া নিয়ে বাঁচতে চায়—দু’বেলার খাবার আর মাথার ওপর একটা ছাদ। পরিবারের মানুষগুলোকে ভালো রাখা। তার জন্য কাউকে হত্যা করার প্রয়োজন নেই। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন যদি এই হিংসা থামানো না যায়, তাহলে সামনে আরও ভয়াবহ সময় আসতে পারে। তাই ঈশ্বরের কাছে তাঁর প্রার্থনা, সবাই যেন ভালো থাকে, সবাই যেন শান্তিতে থাকতে পারে।
এই একই উদ্বেগ শোনা যাচ্ছে কোয়েল মল্লিক ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের কণ্ঠেও। শহরে বড়দিনের আনন্দের আবহ থাকলেও মন ভালো নেই তারকাদের। ২৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে কোয়েলের ‘মিতিন মাসি: একটি খুনির সন্ধানে’, দেবের ‘প্রজাপতি ২’ এবং শুভশ্রীর ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’। ছবি মুক্তির আনন্দ থাকলেও চারপাশের অস্থিরতা সেই আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, শিল্পীসমাজ একসুরে শান্তির বার্তাই দিচ্ছেন। তাঁদের আশা—হিংসা, বিদ্বেষ আর রক্তপাতের পথ ছেড়ে মানুষ যেন মানবতার পথে ফিরে আসে। বাংলাদেশ আবার যেন ফিরে পায় তার চেনা রূপ, শান্তি ও স্থিতি।
বিথী রানী মণ্ডল/










