আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম সাত দিনেই দেশে এসেছে ৯০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৮ শতাংশ বেশি। এর আগে সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়।
ব্যাংক খাতের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাড়তি যে রেমিট্যান্স আসছে, তার একটি বড় অংশ নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে। যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি, সেসব দেশ থেকেই তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থ আসছে। অনেক প্রার্থী বিদেশে তহবিল সংগ্রহ করে তা প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে দেশে আনছেন। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নির্বাচন ও রমজান মিলিয়ে মার্চ মাস পর্যন্ত প্রবাসী আয়ের গতি ভালো থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে দেশে মোট ৩২২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের মার্চ মাসে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে মোট ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে, যা প্রায় দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের সমপরিমাণ।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে এসেছে প্রায় ১৭ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয়। এর আগের বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১৪ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
এদিকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বর্তমানে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে। গত বৃহস্পতিবার ১৫টি ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার কিনেছে, প্রতিডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে। এতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭৫ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধু চলতি মাসেই কেনা হয়েছে ৬১ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধের পর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে। চলতি মাসে আকুর বিল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ১৫৩ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ কমতে থাকে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে এসেছিল ২৬ বিলিয়ন ডলারে, যার ফলে দেশে তীব্র ডলার সংকট তৈরি হয় এবং বাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতিতে ডলারের দর নেমে এসেছে ১২২ টাকায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রম কমে যাওয়া এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে।
আফরিনা সুলতানা/










