ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দলের নির্বাচনী সমঝোতায় আসন বণ্টন নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত এবং চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ চরম আকার ধারণ করায় সমঝোতা প্রক্রিয়া থমকে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী সোমবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একক প্রার্থী ঘোষণার যে পরিকল্পনা ছিল, তা হওয়ার সম্ভাবনা বর্তমানে অত্যন্ত ক্ষীণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১১ দলের সমন্বয়ে নির্বাচনী সমঝোতার চেষ্টা চললেও ইসলামী আন্দোলন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব কমছে না। জামায়াত ইসলামী আন্দোলনকে ৪০-৪৫টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়, যেখানে ইসলামী আন্দোলনের দাবি অন্তত ৭০টি আসন।
জামায়াতের নেতাকর্মীদের দাবি, ৩০টির বেশি আসন পাওয়ার মতো সাংগঠনিক শক্তি ইসলামী আন্দোলনের নেই। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ৭০টির কম আসন গ্রহণ করা হবে দলটির জন্য অসম্মানজনক। এই টানাপোড়েনের কারণে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার নির্ধারিত থাকলেও দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কোনো বৈঠক হয়নি।
সমঝোতায় থাকা অন্যান্য দলের মধ্যেও জামায়াতের ‘বড় ভাই’ সুলভ আচরণ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এক নেতা জানান, বিএনপি যেখানে সম্মানজনক আসনের প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানে জামায়াত প্রত্যাশিত আসন ছাড়ছে না।
জানা গেছে, জামায়াত নিজেদের জন্য ১৯০ থেকে ২০০টি আসন রেখে বাকিগুলো শরিকদের মধ্যে বণ্টনের পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী, এনসিপিকে ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৩ এবং এলডিপি ও খেলাফত মজলিসকে ৬টি করে আসন ছাড়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে এই বণ্টন নিয়েও তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিশেষ করে কুড়িগ্রাম-২ এবং মানিকগঞ্জ-২ এর মতো জামায়াতের শক্ত ঘাঁটির আসনগুলো শরিকদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাবেক ছাত্রশিবির নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ অবশ্য কোনো অনিশ্চয়তার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “একক প্রার্থী ঘোষণার পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়নি। সবার সাথে আলোচনা প্রায় শেষের পথে, দু-একটি আসনের বিষয়ে কথা বাকি আছে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়ের অনেক আগেই সব চূড়ান্ত হবে।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন ভাগাভাগি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধান না হলে ১১ দলের এই নির্বাচনী সমঝোতা শেষ পর্যন্ত বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসন এবং উত্তরবঙ্গের আসনগুলো নিয়ে বড় দলগুলোর মধ্যে কাড়াকাড়ি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
-এম. এইচ. মামুন










