নিজের অপকর্ম ও ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি কাজের অনিয়মের ঘটনা ধামাচাপার দিতে একটি পত্রিকায় মিথ্যা প্রতিবাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে যশোরের শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল্লাহ হকের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উন্নয়ন সহায়তায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সাতমাইল টু গোগা সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে গত (২৫ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু কোনো তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা ছাড়াই মাত্র একদিনের ব্যবধানে সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার একই সামগ্রী দিয়ে পুনরায় ঢালাইয়ের কাজ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এঘটনায় পর গত (২৬ ডিসেম্বর) শুক্রবার যশোর থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে’ “শার্শার বাগআঁচড়ায় সিসি রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসে। ওই খবরে উল্লেখ করা হয়-পায়ের আঙুল অথবা হাত দিয়ে গুতো দিলেই ঢালাইয়ের রাস্তা উঠে যাচ্ছে।
অভিযোগের পর শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল্লাহ ও বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শাহরিয়ার মাহামুদ রঞ্জু কাজ বন্ধের কথা জানান। কিন্তু বাস্তবে মাত্র একদিনের ব্যাবধানে পূর্বের নিয়মেই কাজ শুরু হয়।
এরপর গত (২৭ ডিসেম্বর) শনিবার সরেজমিনে উপজেলার বসতপুর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সড়কের সিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ করেন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরোনো ও ময়লাযুক্ত নিম্নমানের কালো পাথর ইটের খোয়া ও বালি। নকশা অনুযায়ী সিমেন্টের পরিমাণ ও রডের মানও বজায় রাখা হয়নি। ফলে সদ্য নির্মিত সড়কটি অল্প সময়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করেন তারা।
পরে গণমাধ্যমকর্মীরা সচিত্রে তথ্য সংগ্রহ করে দ্বিতীয় পর্ব অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেন। সংবাদ প্রকাশিত হয় ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাকসহ একাধিক প্রিন্ট পত্রিকায়। শিরোনাম ছিলো শার্শায় সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ও সাংবাদিকদের সাথে প্রকৌশলী সানাউল্লাহ হকের বিস্ফোরক মন্তব্য। তারপর থেকে শুরু হয় প্রকৌশলী সানাউল্লাহ হকের দৌড়ঝাপ!
স্থানীয়রা গত ২৭ ডিসেম্বর জানিয়েছিল সড়ক নির্মাণ ও নির্মাণ সামগ্রী অত্যান্ত নিম্নমানের। তাই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়টি সম্পর্কে জনৈক পারভেজ রাজু বলেন, প্রকৌশলী সানাউল্লাহ হক ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কাজ দেখে মণে হচ্ছে তিনি অনিয়ম নয়, পুকুর চুরি করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজসে। সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি বুধবার একটি পত্রিকায় প্রতিবাদ দিয়ে তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন।
মো. সোহাগ হোসেন
শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা/










