কথায় আছে, ‘মাঘের শীত বাঘের গায়ে’। কিন্তু এবার মাঘ আসার আগেই পৌষের শেষ ভাগে বাঘ কাঁপানো শীত জেঁকে বসেছে সারা দেশে। হাড়কাঁপানো এই ঠান্ডায় আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেশের ২৪টি জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি এখনই কাটছে না; বরং আরও অন্তত এক সপ্তাহ শীতের এই দাপট অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতের সাথে ঘন কুয়াশা যোগ হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলার সবকটিতেই আজ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর বাইরে আরও ৮টি জেলা—গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায় শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। যদিও গতকাল ৪৪টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল, আজ তা কমে ২৪ জেলায় এলেও শীতের তীব্রতা কমেনি।
আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, “এই শৈত্যপ্রবাহ দ্রুত বিদায় নিচ্ছে না। নতুন নতুন জেলা এতে যুক্ত হতে পারে আবার কিছু বাদ পড়তে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে এটি আরও এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলতে পারে।”
পূর্বাভাস: কুয়াশা থাকবে দুপুর পর্যন্ত
আগামী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোনো কোনো এলাকায় কুয়াশার দাপট দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে নৌপথ ও মহাসড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের ভিড় বাড়ছে। হাড়কাঁপানো এই শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।
-এম. এইচ. মামুন










