‘চুমু মানে কার্ডবোর্ডে চুমু’-গিরিজা ওক

চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—পর্দায় এত বাস্তব মনে হওয়া চুম্বন কিংবা প্রেমের দৃশ্যগুলো আসলে কীভাবে শুট করা হয়? এসব দৃশ্যে অভিনয়ের সময় শিল্পীদের কি বিশেষ কোনো মানসিক প্রস্তুতি নিতে হয়, নাকি সবটাই আবেগের বহিঃপ্রকাশ? এই রোমান্টিক কল্পনার আড়ালের বাস্তবতা নিয়েই সম্প্রতি মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী গিরিজা ওক, যা অনেক দর্শকের ধারণাকেই খানিকটা ভেঙে দিতে পারে।

গিরিজা শুটিং সেটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, দৃশ্য ধারণের সময় শব্দ ঠিক রাখার জন্য এসি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সেটে থাকা সবাই ঘেমে একাকার হয়ে যান। শরীরে ঝোলানো থাকে মাইক, চারপাশে ঘোরাঘুরি করেন লাইটম্যান, হেয়ার স্টাইলিস্ট ও টেকনিক্যাল টিমের সদস্যরা। কেউ হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে অভিনেতার ঘাম শুকাচ্ছেন, কেউ আলো ঠিক করছেন, আবার কেউ চুল বা পোশাক সামান্য ঠিক করে দিচ্ছেন। হঠাৎ করে কেউ বলে ওঠেন, নিচ দিক থেকে আলো কম—তখন থার্মোকলের একটি টুকরা এনে মুখের সামনে ধরে আলো প্রতিফলিত করা হয়। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রোমান্টিক আবেশ তৈরি হওয়া যে অসম্ভব, সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি লাল্লানটপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন ‘জওয়ান’খ্যাত এই অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, একেবারে অপরিচিত কারও সঙ্গে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে রোমান্স করার জন্য তিনি নিজেকে কীভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেন। উত্তরে গিরিজা জানান, এই প্রশ্ন তাঁকে বহু নারীই করেছেন। তবে তাঁর সোজাসাপটা উত্তর—পর্দার চুম্বন বা ঘনিষ্ঠ দৃশ্য মোটেও আবেগনির্ভর নয়। এটি সম্পূর্ণ একটি কারিগরি ও যান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তিগত অনুভূতির কোনো জায়গা থাকে না।

এই প্রসঙ্গে গিরিজা আরও বলেন, ‘একবার কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, পর্দায় চুমু খাওয়ার অনুভূতি কেমন। আমি বলেছিলাম, এটা কার্ডবোর্ডে চুমু খাওয়ার মতো। কোনো আবেগ থাকে না, সবকিছু খুব হিসেব করে, যান্ত্রিকভাবে করা হয়।’ অনেক সময় এমনও হয়, ক্যামেরার ক্লোজআপ শটে সংলাপ দিতে হচ্ছে, অথচ বিপরীতের অভিনেতা বা অভিনেত্রী সেখানে উপস্থিতই নন। পরে এডিটিংয়ের মাধ্যমে দৃশ্যটি সম্পূর্ণ করা হয়।

গিরিজা ওক মূলত মারাঠি ও হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজের জন্য পরিচিত। ‘গুলমোহর’, ‘লজ্জা’সহ একাধিক জনপ্রিয় মারাঠি ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আমির খানের ‘তারে জমিন পর’, ‘শোর ইন দ্য সিটি’ এবং শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। টেলিভিশন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তাঁর উপস্থিতি নজরকাড়া। পর্দার রোমান্সের আড়ালের এই বাস্তবতা তুলে ধরে গিরিজা যেন দর্শকদের সামনে চলচ্চিত্র জগতের আরেকটি অচেনা দিকই উন্মোচন করলেন।

-বিথী রানী মণ্ডল