১৫ বছর আগে সিডনিতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল উসমান খাজার। সেই মাঠেই শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে খেললেন অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ব্যাট হাতে শেষ ম্যাচে রাঙাতে না পারলেও অ্যাশেজের শেষ দিনে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ৫ উইকেটের জয়ে সিরিজ শেষ হয়েছে ৪–১ ব্যবধানে।
সিরিজের ফল অবশ্য আগেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল, টানা তিন টেস্ট জিতে অ্যাশেজ ধরে রাখে অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্ট জিতে ইংল্যান্ড কেবল হোয়াইটওয়াশ এড়ায়। সিডনি টেস্টটি বিশেষ গুরুত্ব পায় খাজার বিদায়ের কারণে এবং ম্যাচটি পঞ্চম দিনে গড়ানোয়—যা আগের চার টেস্ট মাত্র ১৩ দিনে শেষ হওয়ায় তৈরি হওয়া সমালোচনা কিছুটা হলেও প্রশমিত করেছে।
চতুর্থ দিনের শেষেই ইংল্যান্ডের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ২ উইকেট হাতে রেখে তাদের লিড ছিল মাত্র ১১৯ রান। সেঞ্চুরিয়ান জ্যাকব বেথেল ক্রিজে থাকলেও পঞ্চম দিনের সকালে ইংলিশরা দ্রুত গুটিয়ে যায়। আগের দিন ১৪২ রানে অপরাজিত থাকা বেথেল যোগ করতে পারেন মাত্র ১২ রান। দিনের প্রথম সেশনেই ৩৪২ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৫৪ রান করেন বেথেল। এ ছাড়া বেন ডাকেট ও হ্যারি ব্রুক করেন ৪২ রান করে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন ব্যু ওয়েবস্টার ও মিচেল স্টার্ক। স্কট বোল্যান্ড শিকার করেন ২টি এবং মাইকেল নেসার নেন ১ উইকেট।
১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পায় অস্ট্রেলিয়া। ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারল্ড দ্রুত রান তুললেও পরের ধাপে ৫৯ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে মার্নাস লাবুশেন, ওয়েদারল্ড ও ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
হেড করেন ২৯ রান, লাবুশেনের ব্যাট থেকে আসে ৩৭, ওয়েদারল্ড করেন ৩৪ এবং গ্রিন অপরাজিত থাকেন ২২ রানে। শেষ টেস্টে উসমান খাজা দুই ইনিংসে করেন ১৪ ও ৬ রান। ইংল্যান্ডের পক্ষে জশ টাং নেন ৩টি এবং উইল জ্যাকস নেন ১টি উইকেট।
ম্যাচটি ছিল খাজার জন্য আবেগঘন। শেষবার ব্যাটিংয়ে নামার সময় ইংলিশ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে গার্ড অব অনার পান তিনি। আউট হয়ে ফেরার সময় সিডনির মাঠে সিজদা দেন ৩৯ বছর বয়সী এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। পুরো গ্যালারি করতালিতে তাকে বিদায়ী অভ্যর্থনা জানায়।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে উসমান খাজা খেলেছেন ৮৮ টেস্ট, ৪০ ওয়ানডে ও ৯টি টি-টোয়েন্টি। একটি ডাবল সেঞ্চুরি, ১৮টি সেঞ্চুরি ও ৪১টি হাফসেঞ্চুরিতে সবমিলিয়ে তার সংগ্রহ ৮,০২৪ রান।
– এমইউএম/










