দীর্ঘ সাড়ে ৭ বছরের বিরতি কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টার একটি বিশাল চালান পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় সদরঘাটের কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে ৫৭ হাজার ৮৫৫ টন ভুট্টার এই চালানটির খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, মানসম্মত পশুখাদ্য নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১ কোটি ৪২ লাখ ডলার বা প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই চালানটি যৌথভাবে আমদানি করেছে দেশের তিন শীর্ষ পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড। এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানি করা হয়েছিল।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে ‘এমভি বেলটোকিও’ নামক জাহাজে করে এই শস্য পাঠিয়েছে মার্কিন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন।
আমদানিকারকরা জানান, সাধারণত দ্রুত সরবরাহের জন্য ভারত বা ব্রাজিল থেকে ভুট্টা আনা হয়। তবে এবার দেখা গেছে, ব্রাজিলের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টার দাম কম পড়েছে। কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা এই ভুট্টার টনপ্রতি খরচ পড়েছে ২৪৬ ডলার, যেখানে ব্রাজিল থেকে আমদানিতে খরচ হচ্ছে ২৫১ থেকে ২৬০ ডলার।
নাহার অ্যাগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনতে সময় একটু বেশি (৪৫ দিন) লাগলেও মান অনেক উন্নত। যেহেতু ব্রাজিলের তুলনায় দামও সাশ্রয়ী এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই আমরা এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই আমদানিতে আগ্রহী।”
ভুট্টার এই পুনরাগমনকে উদযাপন করতে আজ কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত মার্কিন দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট বলেন, “২০২৫-২৬ মৌসুমে উৎপাদিত উচ্চমানের এই ভুট্টা বাংলাদেশের প্রাণী পুষ্টির নির্ভরযোগ্য উৎস হবে। আমরা এর মান ও নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে ভুট্টার চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন। এর মধ্যে বড় একটি অংশ (৮৬ শতাংশ) ব্রাজিল থেকে আমদানি করা হতো। গত অর্থবছরে চাহিদার ২১ শতাংশ বা প্রায় ১৫ লাখ টন ভুট্টা বিদেশ থেকে আনতে হয়েছে। চলতি অর্থবছর থেকে এই আমদানির তালিকায় শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে যুক্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র।
-এম এইচ মামুন









