জুলাই অভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধের ‘মাস্টারমাইন্ড’ জয়, শুনানি শুরু ট্রাইব্যুনালে

জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি দেওয়ার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি সম্পন্ন হবে।
মামলার অন্যতম আসামি জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন। আজ সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তার পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। অন্যদিকে, প্রধান আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালত জয়ের জন্য ইতিমধ্যে সরকারি খরচে ‘স্টেট ডিফেন্স’ আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার তথ্য বিশ্ববাসীর কাছ থেকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর বাংলাদেশে অবস্থান করে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা সরাসরি বাস্তবায়ন করেছিলেন জুনাইদ আহমেদ পলক।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। ফলে আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই আজ অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হচ্ছে। আদালত প্রথমে প্রসিকিউশনের বক্তব্য শুনবেন এবং পরবর্তীতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করবেন।
– লামিয়া আক্তার/