রাজনৈতিক মামলার ভার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে অনেককে মাসের পর মাস কারাবাস করতে হয়েছে। সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পর হয়রানিমূলক মামলা থেকে অনেকে মুক্তি পেলেও এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জামায়াত নেতারা। খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে জামায়াত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা ১৩৮টি মামলার মধ্যে ১৩৪টিরই নিষ্পত্তি হয়েছে।
অন্যদিকে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি। দলটির ছয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মোট ১৪৪টি মামলা থাকলেও এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১১৫টি। খুলনা-১, খুলনা-৪ ও খুলনা-৬ আসনের তিন বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে থাকা ২৭টি মামলার বিচার এখনো চলমান। এ ছাড়া খুলনা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থীর দুটি মামলা আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে।
জামায়াতের জোট শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধেই মামলা নেই। খেলাফত মজলিসের নেতাদের মধ্যে কেবল কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত হোসাইনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা ছিল, তবে তাঁর করা ১০টি মামলাই প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামা অনুযায়ী, খুলনা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ১৩টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটিতে তিনি খালাস, দুটিতে অব্যাহতি এবং দুটি প্রত্যাহার পেয়েছেন। বাকি চারটি মামলা এখনো বিচারাধীন। একই আসনে জামায়াত প্রার্থী ও দলের হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীর বিরুদ্ধে কখনো কোনো মামলা হয়নি।
খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে থাকা ১১টি মামলার মধ্যে ৯টিতে খালাস এবং দুটিতে অব্যাহতি পেয়েছেন। একই আসনে জামায়াত প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলালের বিরুদ্ধে থাকা ২৮টি মামলার মধ্যে ২৬টিতে খালাস এবং দুটিতে অব্যাহতি হয়েছে।
খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের বিরুদ্ধে থাকা ১২টি মামলার সবকটিতেই খালাস বা অব্যাহতি মিলেছে। জামায়াত প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে থাকা ১০টি মামলার মধ্যে আটটিতে খালাস এবং দুটিতে অব্যাহতি হয়েছে।
খুলনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের বিরুদ্ধে মোট ৭০টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১টি মামলার বিচার চলছে এবং কিছু মামলা তদন্ত ও চার্জ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে। বাকিগুলোর বড় অংশে তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন কিংবা মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। একই আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. কবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে থাকা ১৮টি মামলার মধ্যে ১৭টিতে খালাস এবং একটি মামলা বিচারাধীন।
খুলনা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলী আজগর লবীর বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় করা ছয়টি মামলার মধ্যে দুটি স্থগিত রয়েছে, আর বাকি মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে থাকা ৪৮টি মামলার মধ্যে ৪০টিতে খালাস এবং আটটিতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
খুলনা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল ইসলাম বাপ্পীর বিরুদ্ধে আটটি মামলার বিচার চলছে। অন্য মামলাগুলোর বেশির ভাগে তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন। একই আসনে জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে থাকা ৩৪টি মামলার মধ্যে তিনটি বিচারাধীন এবং বাকিগুলোতে অব্যাহতি মিলেছে।
জামায়াত নেতারা বলছেন, অধিকাংশ মামলাই ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তথ্য–প্রমাণের অভাবে আদালতে টেকেনি। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের মধ্যে কেবল একজনের বিরুদ্ধে অতীতে একটি মামলা হয়েছিল, সেটিও বহু আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে।
আফরিনা সুলতানা/










