এআই-এর অপব্যবহার ও ঘৃণা ছড়ানো বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি নাগরিক সমাজের

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সহিংসতা ও ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, কিন্তু তা বন্ধে সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। এমনকি নির্বাচন কমিশনেরও (ইসি) এ বিষয়ে কোনো সক্ষমতা বা সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না।

গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা: ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “এবারের নির্বাচনে নতুন উপাদান হলো এআই-ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার। এর মাধ্যমে নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। নাগরিক সমাজ এসব নিয়ন্ত্রণের দাবি জানালেও সরকার বা নির্বাচন কমিশন নির্বিকার।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডিজিটালাইজেশন প্রগতি আনলেও এটি নতুন ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। ডিজিটাল ব্যবস্থাকে স্বায়ত্তশাসিত, নজরদারিভিত্তিক ও জবাবদিহিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার ওপর জোর দেন তিনি।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে সিজিএস প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, “কারও হাতে সেলফোন থাকলেই দেশ ডিজিটাল হয়ে যায় না। গত এক দশকে ডিজিটাল নাম ব্যবহার করে বহু চুরি ও অর্থ লোপাট হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ লোপাট হলেও তা থামানো যায়নি।” তিনি আরও বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর আস্থা কমে যাওয়ায় মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা অনেক সময় যাচাই না করেই খবর প্রচার করছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতির সুফল পেতে হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহিদ এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ডিন এম এ বাকী খলীলীও ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো ডিজিটাল সুরক্ষায় কী ভূমিকা রাখবে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান।

 

– লামিয়া আক্তার/