নির্বাচন নিয়ে সংশয় ছড়ালে নজরদারি: প্রেস সচিব

নির্বাচন নিয়ে যারা এখনও সন্দেহ ও সংশয় ছড়াচ্ছেন, তাদের ওপর সরকার কড়া নজরদারি রাখছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
প্রেস সচিব জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৩৭ দিন বাকি। সরকার নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি বলেন, “যারা সংশয় তৈরি করছে, তাদের প্রোফাইল সরকার স্পষ্টভাবে জানে। তাদের অতীত ভূমিকা কী ছিল এবং কেন তারা এখন সংশয় ছড়াচ্ছেন, তা-ও আমাদের নজরে আছে।”
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে শরিফ ওসমান হাদির জানাজা, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার মতো বড় তিনটি ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির আত্মবিশ্বাস আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং প্রয়োজনে গানম্যান বরাদ্দ করা হচ্ছে।
আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, এই ভোটের মাধ্যমেই আগামী ১০০ বছরের বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে। গণভোটে জনঅংশগ্রহণ বাড়াতে সারাদেশে প্রায় ৪ লাখ মসজিদসহ মন্দির ও গির্জার ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে প্রচারণা চালাচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
ব্রিফিংয়ে যশোরের মনিরামপুরে রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) হত্যার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় ও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।
ফয়েজ আহম্মদ স্পষ্ট করে বলেন, “রানা প্রতাপ দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তিনি নিজেই একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চরমপন্থী রাজনীতি ও পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর সাথে সাংবাদিকতা বা ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।”
উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় যশোরের কপালিয়া বাজারে রানা প্রতাপকে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। তিনি স্থানীয় একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিলেও পুলিশ বলছে তাঁর অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতাই ছিল প্রধান।
– লামিয়া আক্তার/