নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকসহ চারজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। গ্রেপ্তারকৃতরা ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহার করে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে জানিয়েছে র্যাব।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মিরপুরের পাইকপাড়ায় র্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
-
মো. জুয়েল আরমান ওরফে হ্যাচকা আরমান (২৬)
-
মো. রিপন ওরফে কেনি (৩৫)
-
মো. জাহিদ (২৭)
-
মো. আরমান হোসেন (৩১)
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও বিবরণ
র্যাব কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, “আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে র্যাব দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে পল্লবী থানার আরমান কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের পাশে একটি নির্মাণাধীন বাসায় অভিযান চালানো হয়।”
তিনি জানান, র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা করে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদক
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই নির্মাণাধীন ভবন থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা গুলি, চারটি দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।
লুট হওয়া অস্ত্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য
উদ্ধার হওয়া বিদেশি অস্ত্রটি সম্পর্কে র্যাব কর্মকর্তা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। তিনি বলেন, “উদ্ধার হওয়া অত্যাধুনিক জাপানি পিস্তলটি মূলত একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র ছিল। ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের আগে সরকারি নির্দেশনা মেনে এর মালিক অস্ত্রটি থানায় জমা দিয়েছিলেন। অভ্যুত্থানের সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে থানা থেকে এটি লুট করে নেওয়া হয়।” এই চক্রটি সেই লুট করা অস্ত্র ব্যবহার করেই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের নামে বিভিন্ন থানায় ২০১৭ সাল থেকে একাধিক মাদক ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।










