হিলি বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ, কৃষকের স্বার্থ রক্ষার দাবি সরকারের

জয়নাল আবেদীন জয় | জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি

দেশীয় কৃষকের স্বার্থ বিবেচনা করে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির নতুন অনুমতিপত্র (আইপি) দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে নতুন কোনো আইপি ইস্যু করা হয়নি, যার ফলে কার্যত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেল। তবে পুরনো বা আগে ইস্যু করা আইপি দিয়ে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন আমদানিকারকরা।

সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দেশের বাজারে আবারও পণ্যটির দাম বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন আমদানিকারকরা।

আমদানিকারকদের উদ্বেগ ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন বলেন, “দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার গত ৭ ডিসেম্বর থেকে আমদানির অনুমতি দেয়। এর ফলে দাম কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকার স্থিতিশীল অবস্থায় চলে এসেছিল। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে সরকার নতুন করে আমদানির অনুমতি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ৪০-৫০ টাকায় নেমে আসা পেঁয়াজের দাম আবারও ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে। ইতিমধ্যেই আমদানির অনুমতি বন্ধের খবরে বন্দরেই কেজিতে ২ টাকার মতো দাম বেড়ে গেছে।”

সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সোমবার থেকে পেঁয়াজ আমদানির নতুন অনুমতি প্রদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আগে ইস্যু করা আমদানির অনুমতির বিপরীতে আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত পণ্যটি আমদানি করা যাবে।”

তিনি জানান, পুরনো আইপিগুলোর বিপরীতে সোমবারও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১২টি ট্রাকে ৩৪৪ টন পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করেছে।

উল্লেখ্য, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গত তিন মাস ধরে পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ দিয়েছিল। নতুন করে আমদানি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় কৃষকদের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।