মোঃ ইউসুফ আলী | দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে পালিত হয়েছে মহারাজা স্কুল ট্র্যাজেডি দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে মহারাজা স্কুল প্রাঙ্গণে মুক্তিযোদ্ধা ট্রানজিট ক্যাম্পে এক ভয়াবহ মাইন বিস্ফোরণে অর্ধসহস্র মুক্তিযোদ্ধার শাহাদাৎ বরণের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ৬ই জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে চেহেলগাজী মাজার প্রাঙ্গণে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিতে এবং মহারাজা স্কুল প্রাঙ্গণে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এসময় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মহারাজা স্কুল প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৬ই জানুয়ারি স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল হক ছুটুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চু, প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আজহারুল আজাদ জুয়েল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফরহাদ আহমেদ প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে সফিকুল হক ছুটু বলেন, “আজকে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কটাক্ষ করা হচ্ছে! কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বলেই আজ অনেকেই করে খেতে পারছেন।”
বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের সম্পদ নয়, এটি জনগণের যুদ্ধ। এর বিরুদ্ধে যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করা হবে। আজহারুল আজাদ জুয়েল বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো আপোস করা হবে না। মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ, যা জনগণের সম্পদ।”
এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ হোসেন ধ্বংসপ্রাপ্ত মহারাজা স্কুল ভবনটি আগের মডেলে পুনর্নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যান্য বক্তারা মহারাজা স্কুল ট্র্যাজেডির এই মর্মান্তিক ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান, যাতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের এই আত্মত্যাগের কথা জানতে পারে।
স্মৃতি পরিষদ ছাড়াও দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রিয়াজ, মহারাজা স্কুল কর্তৃপক্ষ, বাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।
দিনের কর্মসূচির শেষে বাদ আসর মহারাজা স্কুল প্রাঙ্গণ মসজিদে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।










