সম্প্রতি চালু হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) ব্যবস্থা বাংলাদেশের মুঠোফোন খাতে স্বচ্ছতা, ভোক্তা সুরক্ষা এবং তথ্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে বলে জানিয়েছে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ায় দেশে কম খরচে মুঠোফোন উৎপাদনে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান এমআইওবির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবির সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মুঠোফোন শিল্পে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ অবৈধ ও নকল ফোনের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বৈধ ব্যবসার জন্য একটি ন্যায্য প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করবে। তিনি এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এমআইওবির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের জন্য আরও সাশ্রয়ী মূল্যে মুঠোফোন নিশ্চিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনইআইআর কার্যক্রম চালুর ফলে রাজস্ব আদায় বাড়ার পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তিও শক্ত হবে।
শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জানান, দেশে বর্তমানে ১২ হাজার ৯৫২টি অনুমোদিত স্মার্টফোন বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে চার হাজার ২৭০টি গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, অননুমোদিত ও রিফারবিশড ফোনের বিস্তারের কারণে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে এবং উদ্যোক্তারাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এনইআইআর কার্যকর হলে অবৈধ, নকল ও চুরি হওয়া ফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এর ফলে আইএমইআই জালিয়াতি, ফোন ক্লোনিং, প্রতারণাসহ নানা অপরাধ কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবি জানায়, সরকার সম্প্রতি স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্ক কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা শিল্পের জন্য ইতিবাচক। এতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম কমে আসবে এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজারব্যবস্থা গড়ে উঠবে। তবে সংগঠনটি অভিযোগ করে, এই উদ্যোগের বিরোধিতায় কোথাও কোথাও সহিংসতা হচ্ছে, যার ফলে বিক্রয়কেন্দ্র ও কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এমআইওবির তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এই খাতে সরাসরি প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক কর্মরত, পাশাপাশি ডিলার, বিপণনকর্মী, সার্ভিস ও খুচরা বিক্রয় খাতে আরও প্রায় সমপরিমাণ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক। মুঠোফোন শিল্প থেকে সরকার প্রতিবছর কর, মজুরি ও ইউটিলিটি বিলের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পাচ্ছে বলেও জানানো হয়।
-সাবরিনা রিমি










