জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-শ্রমিক ও সাধারণ জনতার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গত ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত অভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য ‘জুলাইযোদ্ধা’দের দায়মুক্তি দিতে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আইন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত এই অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের মডেল অনুসরণ করা হবে।
সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধা পরিচয়ে তাহরিমা জান্নাত সুরভী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান গ্রেফতার হওয়ার পর এই সুরক্ষা আইনের দাবি তীব্র হয়। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারির আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ হয়েছে। আগামীকাল বুধবারই এই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি এবং পার্বত্য এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উস্কানিমূলক অপপ্রচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-লামিয়া আক্তার